বুধবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৩

শাহবাগে রাতভোর , স্মৃতিতে একাত্তর - নব ইতিহাসের সাক্ষী রইল প্রজন্ম চত্বর

জেগে থাকার নয়টি মাস - জাগরণের শাহবাগ প্রজন্ম চত্বর। শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে যে লড়াই টা আমরা শুরু করেছি তা হল একটা চিরমুক্তির আকাঙ্খায় লড়াই - পাকিস্তানিদের দোসর রাজাকার - আলবদর দের হাত থেকে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে চিরস্থায়ী ভাবে মুক্ত করার লড়াই। আমাদের ছয় দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন - সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কেটে গেছে নয়টি মাস। আমাদের অগ্রজেরা ১৯৭১ এ নয় মাস মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমাদ...ের জন্য স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দিয়ে গেছেন। তাঁরা যে স্বপ্ন নিয়ে প্রিয় বাংলাদেশটাকে স্বাধীন করেছিলেন তার অনেক কিছুই এখনও পূরণ হয়নি । সেই ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বদলা নেবার শপথ নিয়ে , বিয়াল্লিশ বছর ধরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়ার কারনে মনের ভিতর জমা করে রাখা পুঞ্জীভূত ক্ষোভের মহাবিস্ফোরণ ঘটেছিল শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে। সেই বিগ ব্যাং থেকে এখন শুরু হয়ে গেছে নতুন মহাবিশ্বের পদচারনা। এই মহাবিশ্বের নাম বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে স্থান হবে না কোন স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীর।

একটা কথা আছে - "স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন।" মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে - আমরা এখন স্বাধীন একটি দেশের নাগরিক। পাকিস্তানি হায়েনারা চলে গেছে এদেশ ছেড়ে , কিন্তু রাজাকার - আলবদর গুলোকে রেখে গেছে। সেই রাজাকার - আলবদরেরা বিয়াল্লিশ বছর ধরে বিষবাস্প ছড়িয়েছে বাংলার মুক্ত - স্বাধীন বাতাসে । বিয়াল্লিশ বছর ধরে তারা যে ক্ষতিগুলো করেছে প্রিয় বাংলাদেশটার , সেই ক্ষতি গুলোকে অতিক্রম করে, তাদের সব অপপ্রচার কে মিথ্যা প্রমান করেই শাহবাগের জন্ম। শাহবাগ সেই রাজাকার - আলবদর দের দেখিয়ে দিয়েছে যে বাংলার তরুনেরা এখনও জেগে আছে। ধর্মের নামে ধর্মব্যবসা নামক মাদকতার ফাদে এই প্রজন্ম কখনও পা দেবে না। এই প্রজন্ম একাত্তরের প্রজন্ম , এই প্রজন্ম হারতে জানেনা। এ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি , রাজাকার রাও এ প্রজন্মের যুদ্ধ দেখেনি, দেখিয়ে দেয়ার এখনি সময়।

আমাদের সেই ছয় দফা দাবির অনেক কিছুই পূরণ হয়েছে , অনেক কিছুই এখনও পূরণ হয়নি। কাজেই আমাদের আন্দোলন চলবেই। আর ছয় দফা দাবি পূরণ হয়ে গেলেই , রাজাকারের ফাসি হয়ে গেলেই যে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের তরুনেরা থেমে যাবে এমন কিছু তো নয়। প্রজন্ম চত্বর একটা চেতনার নাম। বাঙ্গালির বিগ ব্যাং এর নাম। আর তাই প্রজন্ম চত্বরের সংগ্রাম চলবে। শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনের মূল সফলতা হল মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটা প্রজন্মের জাগরন। চেতনার জন্মদান হয়ে গেছে , এখন সেই চেতনাকে বহন করে নিয়ে  যাওয়ার যুদ্ধের সূচনা। এ লড়াই নয়দিনের নয় , নয় মাসের নয় , নয় বছরের নয় - এ লড়াই অনন্তকালের। এ লড়াই সেদিন সফল হবে যেদিন বাংলার মাএরা সন্তানদের গল্প শুনাবেন - "জানো, জামাত - শিবির নামক একটা হায়েনার দল একদা এই বাংলাদেশে ছিল। রুপকথার দুষ্ট রাক্ষস কে যেমন রাজপুত্র এসে হত্যা করে রাজকন্যাকে রক্ষা করে , তেমনি বাংলার রাজপুত্র - রাজকন্যারা সেই জামাত - শিবির নামক দুষ্ট রাক্ষসের হাত থেকে নিজেদের বাংলা মা কে রক্ষা করেছিল।"

ধোঁয়ার কুণ্ডলীর মধ্যে দাঁড়িয়ে স্বপ্ন দেখি সুখী - সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ,
যে বাংলাদেশে স্থান হবে না রাজাকার - আলবদরের -
আবার জেগে উঠেছে বাংলাদেশ ,
ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে আল- বদরের তাসের সিংহাসন।
যেভাবে ভেঙেছিল একাত্তরে , প্রতিপক্ষ তো সেই এক ই…
বাঙালি তো প্রতিকূলের যাত্রী , ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়েও স্বপ্ন দেখি ,
বলি – “আমার সোনার বাংলা , আমি তোমায় ভালোবাসি ।”

জয় বাংলা , জয় বঙ্গবন্ধু। জয় প্রজন্ম , জয় শহীদজননী , জয় গণজাগরণ মঞ্চ। জয় হোক মুক্তিযুদ্ধের , জয় হোক স্বাধীনতার।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন