শুক্রবার, ১ নভেম্বর, ২০১৩

শাহবাগ ডাকছে তোমায় , চলে এস বন্ধু - রুখে দাড়াও , আদায় করে নাও তোমার প্রাণের দাবি ।


মনে আছে ফেব্রুয়ারি মাসের কথা ? মনে আছে আমাদের প্রাণের দাবির কথা? মনে আছে রাজাকারের ফাঁসির দাবির কথা ? মনে আছে সারা বাংলাদেশ একসাথে নীরব হয়ে যাওয়ার কথা? মনে আছে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে নেয়া সেই শপথের কথা? মনে আছে কোটি মোমবাতির আলোয় আলোকিত শাহবাগের কথা? আজকে শাহবাগ আবার ডাকছে আপনাকে -আমাকে , আমাদের সবাইকে। মনে আছে আমাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে আইন সংশোধন করে কাদের কসাই এর ফাঁসির রায় হওয়ার কথা ? সাইদি - কামরুজ্জামান - মুজাহিদ - সাকার ফাঁসির রায়ের কথা? এই এক একটা রায় আমাদের এক একটা বিজয় - আর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করতে হলে রাজপথে থাকতে হবে আমাদের।

আজকে যখন আমাদের শাহবাগ আন্দোলন বিজয়ের দোরগোড়ায় এসে পৌঁছেছে, যখন কসাই কাদেরের ফাঁসি কার্যকরের অপেক্ষায় আস্থির পুরো জাতি - ঠিক তখনই স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি মরণকামড় দিচ্ছে - তারা আক্রমণ চালাচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার কাণ্ডারি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপর, ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের উপর , মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের মানুষদের উপর একের পর এক চলছে আক্রমণ। নিজেকে প্রশ্ন করুন এ অবস্থায় আপনার চুপ করে থাকা মানায় কিনা। আপনি যদি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ হন , যদি রাজাকারের ফাঁসি চান - তাহলে নিশ্চয় অপেক্ষা করে আছেন কসাই এর ফাসি কার্যকরের জন্য , চৌধুরী মইনুদ্দিন , আশরাফুজ্জামান এর রায়ের জন্য।

আপনি যদি রাজাকারের ফাঁসি চান তাহলে এখন সময় আরেকবার স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। আজকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপর আক্রমন হচ্ছে , আপনি যদি এর প্রতিবাদ না করেন তাহলে কোন এক সুন্দর সকালে যখন সারা বাংলাদেশ রাজাকারের ফাসির আনন্দে , কসাই এর ফাসির আনন্দে হাসবে তখন কি নিজের বিবেকের কাছে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেন ? কেন সেদিন শাহবাগে যাননি ? যখন হুইলচেয়ারে করে হলেও বাঙালি তরুণী শাহবাগে ছুটে আসে তখন কোন যুক্তিতে ঘরে বসে ছিলেন? নিজের বিবেক কি এই প্রশ্ন টা করবে না আপনাকে ? কি উত্তর দিবেন তখন?

শাহবাগ আজ ডাকছে আমাকে -আপনাকে , আমাদের সবাইকে। প্রজন্ম চত্বরের এই ডাককে অস্বীকার করবেন না একজন বাঙালি হয়ে। চলে আসুন শাহবাগে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতির বাসভবনে হামলা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের প্রসিকিউটরবৃন্দ এবং মামলার সাক্ষীর বাড়িতে হামলা, মুক্তিযোদ্ধা হত্যা, প্রগতিশীল গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপর হামলা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল মানুষদের উপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে গনজাগরণ মঞ্চের ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে আগামীকাল ২ নভেম্বর শনিবার বিকেল ৩টায় শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

প্রত্যেকবারের মত এবারও  চৌধুরী মইনুদ্দিন এবং আশরাফুজ্জামান এর রায়ের দিন অর্থাৎ ৩ নভেম্বর রবিবার সকাল দশ টা থেকে রায় ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে অবস্থান চলবে। এরপর আগামী ৯ নভেম্বর শনিবার বিকাল ৩টায় প্রজন্ম চত্বরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর ও জামায়াত শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে অনুষ্ঠিত হবে এক ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশ।রাজাকারের ফাঁসির দাবিকে কণ্ঠে তুলে নিয়ে চলে আসুন শাহবাগে। এক হয়ে আমরা রুখে দাড়াই রাজাকার -আলবদর - জামাত -শিবির - স্বাধীনতাবিরোধী সব অপশক্তির বিরুদ্ধে।

জয় বাংলা , জয় বঙ্গবন্ধু। জয় প্রজন্ম , জয় শহীদজননী , জয় গণজাগরণ মঞ্চ। জয় হোক মুক্তিযুদ্ধের , জয় হোক স্বাধীনতার।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন