বুধবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৩

সাবাশ বাংলাদেশ , এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয় , জ্বলে - পুড়ে - মরে ছারখার , তবু মাথা নোয়াবার নয়।

একটি প্রজন্মের যখন জাগরণ হয় , তখন সে জাগরণের জোয়ারে সবরকম অপশক্তি পরাজিত হতে বাধ্য। একটি জাতির তরুণ সমাজ যখন জেগে উঠতে জানে , তখন সেই জাতিকে দমাতে পারে এমন শক্তি নেই। বাঙালি এমন একটা জাতি যে জাতির জন্ম বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে। প্রতিটা বাঙালি জন্ম থেকে বিপ্লবের সাথে এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ - আর সেজন্যই মুখ বুজে সহ্য করার স্বভাব বাঙ্গালির নেই। বাঙালি জাতি এমন একটি জাতি , মায়ের মুখের ভাষায় কথা বলার অধ...িকারটাও যাদের সংগ্রাম করে আদায় করতে হয়েছে , রক্ত ঝরিয়ে আদায় করতে হয়েছে। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা , বাংলাদেশ নামক ছোট্ট সবুজ দেশটি রক্তের দামে কেনা , মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জন করে নেয়া , ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের দামে , দুই লাখ বীরাঙ্গনা মাএর সম্ভ্রমের দামে কেনা এই ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ ...। সেজন্যই তো বাংলাদেশ কে নিয়ে , বাঙ্গালিকে নিয়ে সুকান্ত ভট্টাচার্য লিখেছিলেন - "সাবাশ বাংলাদেশ , এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়/ জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার , তবু মাথা নোয়াবার নয়।"

বাংলাদেশ এমন একটা দেশ , চিরদিন যে দেশের নরম পলিমাটিতে জন্ম নেয় সচেতনতার ধান - শত জরা , মৃত্যুকে পাশ কাটিয়ে অনন্ত অক্ষত মূর্তিতে বাংলাদেশ জাগতে জানে। সুকান্ত ভট্টাচার্যের দিয়াশলাই বাংলাদেশের প্রতিটা তরুন প্রাণে সদা জাগ্রত । তাই বাংলা মায়ের কলঙ্কমোচনের প্রশ্নে ভিসুভিয়াসের মহাবিস্ফোরণের মত বাঙালি বারবার জেগে উঠেছে, উঠবে। '৫২ , '৬২ , '৬৬ , '৬৯ , '৭১ , '৯০ , '৯২ , '২০১৩ - এক একটা সাল - রক্তের দামে লাল - সবুজ মানচিত্র আঁকার এক একটি বছর। শহীদ সালাম - বরকত - রফিক - শফিক - জব্বার কিংবা শহীদ রুমী -বদি -আজাদ - সুরকার আলতাফ মাহমুদ - ক্রিকেটার জুয়েল - অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী - মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী - জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা কিংবা নাম না জানা আরও ত্রিশ লাখ শহীদ , কিংবা শহীদ রাজীব , দীপ , জগতজ্যোতি , জাফর মুন্সি - কি সুন্দর থোকা থোকা পুষ্পগুচ্ছের মত এক একটি নাম, এক একজন শহীদের নাম যাদের রক্তস্রোতে প্লাবিত বাংলার মাটি।

বাঙালি জাতির জাগরনের জোয়ারের কাছে স্বাধীনতাবিরোধীর দম্ভ , সব রকম ষড়যন্ত্র পরাজিত হতে বাধ্য হয় বারবার। আর সেজন্যই তো কাদের কসাইএর বিজয় চিহ্ন সহ্য করতে না পেরে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে ঘটেছিল প্রজন্মের নবজাগরণ । একটা দাবি , রাজাকারের ফাসি চাই - একটা ই স্লোগান - "জয় বাংলা" । কথা একটাই , রাজাকারের ফাসি হতেই হবে। এই মূলমন্ত্রে বাঙালি জাতি যখন এক হল , সরকার বাধ্য হল আইন সংশোধন করতে। আইন সংশোধন হল - একের পর এক রাজাকারের ফাসির রায়ও হচ্ছে এখন , জামাতের নিবন্ধন বাতিল - বাঙ্গালির ব্যালট পেপার মুক্ত হয়েছে দাঁড়িপাল্লা নামক ঘৃণ্য প্রতীক থেকে। আন্দোলন চলছে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও। ব্রিটিশ হাইকমিশনের সামনে সেখানের বাঙ্গালিরা দাবি জানিয়েছেন যুদ্ধাপরাধী মইনুদ্দিন কে দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর। এখন শুধু সে চূড়ান্ত মুহূর্তের অপেক্ষা - কসাই এর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হবে এখন যে কোন দিন , এরপরেই ফাসি - বাঙ্গালির বিয়াল্লিশ বছরের কলঙ্কমুক্তি। ৫ ফেব্রুয়ারি তারিখ থেকে রাজাকারের বিজয় চিহ্নের প্রতিবাদে প্রজন্মের আন্দোলন এখন বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে। প্রজন্ম চত্বরের জাগরন প্রমান করে বাঙালি এখনও ঘুমিয়ে যায়নি , যে কোন সময় যে কোন অপশক্তির বিরুদ্ধে কণ্ঠে দুর্জয় স্লোগান নিয়ে তারা রাজপথে নামতে পারে , দাবি আদায় করে নিতে পারে।

বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দল দেশের কোন স্বার্থে এক হতে না পারলেও , দেশের একজন কাণ্ডারির বিরুদ্ধে তারা সবাই এক হয়। আমার অবাক লাগে তারা কিভাবে এমন একজন মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় যিনি আমেরিকায় নিশ্চিত জীবনের আশ্বাস ছেড়ে বাংলাদেশকে কিছু দেয়ার জন্য পরে আছেন এই দেশে। প্রজন্ম চত্বরে কোন রাজনৈতিক দলের কাউকে যখন মঞ্চের কাছে যেতে দেয়া হচ্ছিল না , তখন জাফর ইকবাল স্যার আর ইয়াসমিন ম্যাম কে সবাই নিজেরা জায়গা করে দিচ্ছিল - কতটা শ্রদ্ধা একজন মানুষের জন্য থাকলে এরকম হতে পারে সেটা বোঝার বুদ্ধি হয়ত এসব স্বশিক্ষিত রাজনীতিবিদদের মাথায় নেই। কিন্তু আশার কথা হল , এই রাজনীতিবিদদের বিপরীতে বাংলার তরুন সমাজ তো এখনও জেগে আছে। আর শেষ হাসি কিন্তু এই তরুনদের হাতেই , দিনশেষে বিজয় জাফর ইকবাল স্যারের হাতে গড়া প্রজন্মেরই। ঢাকাতে থাকার কারনে আন্দলনে অংশ নিতে পারিনি , কিন্তু অন্তর থেকে প্রতি মুহূর্তে ছিলাম তাদের সাথেই। তারাই আবার ফিরিয়ে আনল জাফর ইকবাল স্যারকে - দেখিয়ে দিল বাংলাদেশের প্রজন্ম হারতে জানে না , আপোষ করতে জানে না। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারী ভাইয়া -আপুদের ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানাই।

জয় বাংলা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন