আজকে আপনি যদি ফেলানি হত্যা নিয়ে কথা বলেন , প্রশ্ন উঠবে মনির হত্যা নিয়ে কথা বলেন না কেন। আজকে আপনি যদি মনির হত্যা নিয়ে কথা বলেন , প্রশ্ন উঠবে বিশ্বজিৎ হত্যা নিয়ে কথা বলেন না কেন। যদি জামাতের হামলায় আহত স্কুলছাত্রীর কথা বলেন - প্রশ্ন উঠবে সাগর - রুনির কথা বলেন না কেন। কিন্তু এতে আসলে কি লাভ হচ্ছে ? কার লাভ হচ্ছে ? ফেলানি বলি , মনির বলি , বিশ্বজিৎ বলি আর সাগর -রুনি বলি তারা সবাই ই তো বাংলাদেশের সাধার...ণ মানুষ, তাইনা? তাদেরকে আমরা ন্যায্য বিচার দেয়ার কথা বলি - যত বিচার হোক আর যাই হোক, এই মানুষগুলোকে কি আমরা ফিরিয়ে আনতে পারব ?
কোনোদিন পারব না। এদের হত্যার বিচারে যদি কয়েকজন খুনি কিংবা কলুষিত রাজনীতিবিদের ফাঁসিও হয় - তাতে কি ক্লাস ফাইভে পরা কিশোর মনির ফিরে আসবে নাকি কিশোরী ফেলানি ফিরে আসবে? কেউ ফিরে আসবে না। এই জীবনগুলোর কি কোন মূল্য নেই ? নাকি রাজনীতি করার জন্য লাশের প্রয়োজন হয় আর তাই একের পর এক লাশ পরতে থাকবে ? এক দল হরতাল হরতাল করে মানুষ মারবে আর আরেক দল সেই লাশকে ব্যবহার করবে নিজেদের পক্ষের কয়েকটা ভোট বাড়ানোর কাজে - এই লাশগুলো যে আরেকদলের সহিংসতার প্রমান । এরকম কয়েকটা লাশ না পরলে রাজনীতি হবে কি করে!
আমার কাছে একজন ফেলানির মূল্য , একজন মনিরের মূল্য বাংলাদেশের এক একজন রাজনীতিবিদের প্রত্যেকের চেয়ে বেশি। একজন নূর হোসেন যখন জীবন দেন "স্বৈরাচার নীপাত যাক , গনতন্ত্র মুক্তি পাক" বলে , তখন তিনি নিশ্চয় এমন গনতন্ত্রের জন্য জীবন দেন না যে গণতন্ত্র লাশের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। যে গনতন্ত্রের বলি হতে হয় দেশের সাধারন মানুষকে, যে গনতন্ত্র রক্ষার খাতিরে বাসে - গাড়িতে - সাধারন মানুষের গায়ে আগুন দেয় জামাতের সন্ত্রাসীরা আর সেই দৃশ্য সাংবাদিকেরা ভিডিও করেন - স্কুপ নিউজের মূল্য যে অনেক বেশি ! - এই গণতন্ত্রের জন্য নূর হোসেন জীবন দেন না।
আমার সবচেয়ে খারাপ লাগে যখন দেখি এক একজন সাধারন মানুষের মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর কি করলে এই মানুষটাকে বাঁচানো যেত , এই সহিংসতা বন্ধ করা যেত সেই প্রশ্ন সামনে আসেনা , সামনে আসে এই মানুষটাকে কোন দল খুন করেছে সেই প্রশ্ন! বাংলাদেশ টা কি দুই রাজনৈতিক দলের খেলার পুতুল? হ্যা অবশ্যই কোন দলের সন্ত্রাসীরা খুন করেছে সেটা সামনে আসা উচিত , কিন্তু সবার আগে দেখা উচিত এই সাধারন মানুষগুলো বাংলাদেশের ঘৃণ্য রাজনীতির বলি। এক একজন মানুষ মারা যাবে আর আবেগঘন বক্তৃতা শোনা যাবে শুধু রাজনীতিবিদদের মুখ থেকে। কি লাভ এতে? যদি লাশের রাজনীতি বন্ধ করার সদিচ্ছা কারো থাকত তাহলে হরতালে সহিংসতা করা অপরাধ এই মর্মে আইন পাশ করা যেত , সে আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া যেত। কিন্তু তা কেউ করবে না - এক একটা জীবন ঝরে পরবে আর এক একবার রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার খুজে পাবে।
এই ঘৃণ্য রাজনৈতিক খেলা থেকে মুক্ত হয়ে আমরা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষেরা যে কবে সেই বাংলাদেশ দেখতে পাব , যে বাংলাদেশের জন্য ত্রিশ লাখ শহীদ জীবন দিয়েছিলেন । যে বাংলাদেশের জন্য শাহবাগে স্লোগান ওঠে - "আর কোন দাবি নাই , রাজাকারের ফাসি চাই।" সেই বাংলাদেশ আমরা কবে দেখতে পাব? রাজাকারের ফাসি টাই বা কবে কার্যকর হবে ? হয়ত সেই স্বপ্ন দেখার পথ এখনও বহুদূর বাকি....।আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়া করিতে পারিনি চিৎকার , বুকের ব্যথা বুকে চাপাইয়া নিজেরে দিয়াছি ধিক্কার...
জয় বাংলা , জয় বঙ্গবন্ধু। জয় প্রজন্ম , জয় শহীদজননী , জয় গণজাগরণ মঞ্চ। জয় হোক মুক্তিযুদ্ধের , জয় হোক স্বাধীনতার।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন