সোমবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৩

বাংলার হিন্দু , বাংলার বৌদ্ধ , বাংলার খ্রিষ্টান , বাংলার মুসলমান -আমরা সবাই বাঙালি।

দেশের সাধারন মানুষের জীবনের নিরাপত্তা কোথায়? সাথিয়ায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর হামলার ঘটনা হয়ত আমরা কিছুদিনের মধ্যেই ভুলে যাব - কিংবা এক দল অন্য দল কে দোষারোপ করতে থাকবে এই ব্যাপারে। আমরা অনেক সহজেই সবকিছু ভুলে যাই - এই হামলার খবর আমরা সেভাবেই ভুলে যাব যেভাবে ভুলে গেছি কাঁটাতারে ঝুলন্ত ফেলানির কথা , সীমান্তে অগণিত বাঙালি হত্যার কথা কিংবা তাজরিন গার্মেন্টস, রানা প্লাজার কথা। খুব বেশি হলে আর কতদূর হবে ? একবার আটক করা হবে অপরাধীদের , পরিস্থিতি ঠাণ্ডা হলে আবার ছেড়ে দেয়া হবে - তারা বুক ফুলিয়ে ঘুরবে। আমাদের সমাজটাই যে এমন - এখানে ধর্ষিতা বোন কে প্রশ্ন করতে হয় -"আমি এখন মুখ দেখাব কি করে?" আর ধর্ষক মাথা উচু করে ঘুরে বেড়ায়।এটাই কি আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ? এই বাংলাদেশের জন্য কি ত্রিশ লাখ শহীদ জীবন দিয়েছিলেন? দুই লাখ বীরাঙ্গনা সম্ভ্রম দিয়েছিলেন কি এই বাংলাদেশের জন্য?

রাজাকারের বিচার হচ্ছে বিয়াল্লিশ বছর পর বাংলাদেশে এটা অবশ্যই আমাদের অনেক বড় প্রাপ্তি , এক একবার রায় হয় আর বিজয় আনন্দে ভাসি গোটা জাতি। এর মধ্যে বাচ্চু রাজাকার , সাইদি , কামরুজ্জামান , কাদের কসাই , মুজাহিদ , সাকা , চৌধুরী মইনুদ্দিন , আশরাফুজ্জামান এর ফাসির রায় হয়েছে - যাবজ্জীবন হয়েছে গোলাম আজম ও আব্দুল আলিমের। এই যাবজ্জীবনের বিরুদ্ধে আপিল ও হয়েছে । বিয়াল্লিশ বছরের কলঙ্কমোচনের পথে হাঁটছে বাঙালি জাতি - এখন অপেক্ষা অন্তত একটা রায় কার্যকর করার। অনেক দূর পথ চলে এসেছি আমরা। শাহবাগ গণজাগরণ মঞ্চ জাগিয়ে তুলেছে এদেশের সাধারন মানুষের অন্তর কে , একতাবদ্ধ করেছে রাজাকারের ফাসির দাবিতে। রায় হয়েছে , ফাসি হবে বিশ্বাস আছে এখনও। দেরি হোক , আগে হোক , পরে হোক ফাসির দড়ি থেকে রেহাই পাবে না কাদের কসাই। এই ফাসি কার্যকর হলে সম্পূর্ণভাবে সার্থক হবে আমাদের শাহবাগ আন্দোলন , শাহবাগের চেতনা বেঁচে থাকবে , অনুপ্রেরণা যোগাবে যুগের পর যুগ।

বাংলা মায়ের বিয়াল্লিশ বছরের কলঙ্কমোচনের শাহবাগ আন্দোলন প্রায় বিজয়ের পথে। আমাদের একটু খেয়াল করা উচিত যাতে নতুন করে কোন কলঙ্ক এই বাংলা মাএর বুকে না জন্ম হয়। এই বাংলাদেশ আমাদের সবার। উচু -নিচু , ধনী -গরীব , হিন্দু - মুসলমান - বৌদ্ধ - খ্রিষ্টান সবার। রামুর মত কিংবা সাথিয়ার মত কিংবা তাজরিন গার্মেন্টস কিংবা রানা প্লাজার মত কিংবা ফেলানির মত আর কোন ঘটনা যাতে আমাদের দেখতে না হয়। এইসব অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি - কে কোন দলের আমি জানি না , শুধু বুঝি এইসব হামলার শিকার প্রত্যেকটা মানুষ আমার ভাই -বোন , তারা সবাই বাঙালি , তারা সবাই বাংলাদেশ পরিবারের সদস্য। দীপাবলির আনন্দে যখন হাসার কথা তখন সাথিয়ায় এই হিন্দু পরিবার গুলোকে হতে হচ্ছে নির্মম হামলার শিকার। কেন? আমরা বাংলা মাএর বুকে আর কোন কলঙ্কক্ষত দেখতে চাই না। সাম্প্রদায়িক হামলা বন্ধ চাই , সীমান্ত হত্যা বন্ধ চাই, গার্মেন্টস শ্রমিক দের জীবনের নিরাপত্তা চাই।

আমার শাহবাগ প্রজন্ম চত্বর আমাকে দেশবিরোধী সবরকম অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে শিখিয়েছে। আমি একজন বাঙালি হিসেবে রাজাকারের ফাসি চাই , একজন বাঙালি হিসেবে জামাত -শিবির নিষিদ্ধ চাই , একজন বাঙালি হিসেবেই দাবি জানাই যাতে আমার হিন্দু ভাই -বোন কে আর কোন অত্যাচারের শিকার হতে না হয়। বাংলার হিন্দু , বাংলার বৌদ্ধ , বাংলার খ্রিষ্টান , বাংলার মুসলমান - আমরা সবাই বাঙালি।

জয় বাংলা , জয় বঙ্গবন্ধু। জয় প্রজন্ম , জয় শহীদজননী , জয় প্রজন্ম চত্বর। জয় হোক মুক্তিযুদ্ধের , জয় হোক স্বাধীনতার।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন