বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৩

নয় নভেম্বর শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে ছাত্র - শিক্ষক সমাবেশ ...

প্রজন্ম চত্বরের সেই আগুনঝরা দিনগুলোর কথা মনে আছে তো?  মনে আছে তো বিয়াল্লিশ বছরের অভ্যস্ত নীরবতা ভেঙ্গে দিয়ে বাঙ্গালির মহান গণজাগরণের কথা? সেই  হৃদয়ে আগুন ধরানো স্লোগান - স্মৃতিময় গণজাগরণ  - যুদ্ধাপরাধীদের ফাসির দাবিতে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জাগরণ। সে আগুনঝরা দিনগুলোতে শাহবাগে ছুটে গিয়েছিলেন ছাত্র - শিক্ষক - পেশাজীবী- বুদ্ধিজীবী সব শ্রেণী - পেশার মানুষ। বিয়াল্লিশ বছর ধরে চেপে রাখা যন্ত্রণা বুকে ...নিয়ে রাজাকারদের ফাঁসি চাইতে শাহবাগে এসেছিলেন বীরাঙ্গনা মা, একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা ছুটে এসেছিলেন একাত্তরের পরাজিত হায়েনাদের বিচার চাইতে , রাজাকারের ফাসি চাইতে , কাদের কসাই এর ফাসি চাইতে। আমাদের জাগরণ, শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের জাগরণ প্রমাণ করে বাঙালি সংগ্রামী জাতি - বাঙালি লড়াই করে বাঁচতে জানে। সারা বিশ্ব অবাক হয়ে দেখেছে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে প্রজন্মের নবজাগরণ। আমাদের ধমনীতে শহীদের রক্ত , এই রক্ত কোনোদিনও পরাজয় মানে না...।।
 

সেই ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আজ পার হয়ে গেছে নয়টি মাস। নয় মাস ধরে চলছে আমাদের শাহবাগ আন্দোলন - রাজাকারের ফাসি না হওয়া পর্যন্ত, আমাদের ছয় দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবেই। প্রাণের শাহবাগ আমাদের তীর্থস্থান , আমাদের দাবি জানানোর মঞ্চ আমাদের প্রিয় গণজাগরণ মঞ্চ। আমাদের অগ্রজেরা ১৯৭১ সালে নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলা মাএর স্বাধীনতা এনেছেন। আমাদের শাহবাগ আন্দোলন নয় মাস পার করেছে এর মধ্যেই - অনেকগুলো রাজাকারের ফাঁসির রায় আমরা পেয়েছি , নিঃসন্দেহে এগুলো অনেক বড় বিজয়। রাজাকারের ফাসির দাবিতে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বর যদি জেগে না উঠত , যদি জেগে না থাকত তাহলে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বদলা নেবার আকাঙ্খ্যা অনেক আগেই মুখ থুবড়ে পরত , মা জাহানারা ইমামের স্বপ্ন কাদের কসাই এর বিজয় চিহ্নের মধ্যেই হারিয়ে যেত। কিন্তু না , আমরা সেটা হতে দেইনি। কাদের কসাই এর ফাসির রায় আমরা আদায় করে নিয়েছি।
 

প্রায়ই এখন আসছে আমাদের আন্দোলনের এক একটি সফলতার খবর। এতোগুলো রাজাকারের ফাসির রায়, নির্বাচনের জন্য জামাতকে অযোগ্য ঘোষণা এসবই বিজয় আনন্দ বহন করে আনে আমাদের কাছে। এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না  যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিক দল জামাত। নিশ্চিতভাবেই এগুলো অনেক অনেক বড় পাওয়া আমাদের - কিন্তু আমাদের দাবি যে এখনও পুরোপুরি পূরণ হয়নি। আমাদের দাবি রাজাকারের ফাসি কার্যকর করা। কাদের কসাই সহ সব রাজাকারের ফাসি দ্রুততম সময়ে কার্যকর করার দাবি আমাদের। আর তাই ৯ নভেম্বর তারিখ শনিবারে আবার জাগবে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বর। মনে রাখবেন - "এক দফা এক দাবি , রাজাকারের ফাসির দাবি। আর কোন দাবি নাই , রাজাকারের ফাসি চাই।"
 

যদি বাংলাদেশ কে ভালোবাসেন , যদি মাতৃভূমি বাংলাদেশের কলঙ্কের অবসান চান , যদি রাজাকারের ফাসি চান - তাহলে প্লিজ কোন অজুহাত দিয়ে ঘরে বসে থাকবেন না। নয় তারিখ শনিবারে চলে আসুন শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে। জানিয়ে দিন - আমরা রাজাকারের ফাসি চাই , বিয়াল্লিশ বছরের কলঙ্কের অবসান ঘটিয়ে কসাই এর ফাসির সোনালি ভোর দেখতে চাই। রাজাকারমুক্ত বাংলাদেশের জন্য আমরা জেগে আছি , জেগে থাকব।
 

"ফুল খেলবার দিন শেষ আজ দুর্জয় স্লোগান ,
রাজাকারদের রক্তে করব আবার পুন্যস্নান...
আজ কাদতে আসিনি ফাসির দাবিতে একাত্ম হয়েছি...
আজ হিসাব চাই এতদিন যত বঞ্চনা সয়েছি...
আবার একাত্তর - শাহবাগ জেগে ওঠো...।" 
 

জয় বাংলা , জয় বঙ্গবন্ধু। জয় প্রজন্ম , জয় শহীদজননী , জয় গণজাগরণ মঞ্চ। জয় হোক মুক্তিযুদ্ধের , জয় হোক স্বাধীনতার।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন