সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

আগামীকাল কাদের কসাই এর রায় , আশা করি নিরাশ হব না ।

স্মৃতিতে একাত্তর , স্মৃতিতে ৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৩ । সেদিন আমরা শাহবাগে এক হয়েছিলাম বাংলার মাটিতে কাদের কসাই এর হাতে বিজয় চিহ্ন সহ্য করতে না পেরে , মা জাহানারা ইমাম এর স্বপ্ন সফল করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে । মুক্তিযুদ্ধের ৪২ বছর পর বাংলাদেশ আবার শুনল... তার সন্তান দের গর্জন । উদ্যত মুষ্টিবদ্ধ হাতে বাংলার জনতা শাহবাগে সমবেত হয়ে ঘোষণা দেয় তাদের আর কোন দাবি নেই , তারা শুধুই রাজাকারের ফাঁসি চায় । পাঁচ বছরের ছোট্ট শিশু থেকে শতবর্ষী বৃদ্ধ মা - বাবা , কোন বাঙালি ই নিজের প্রানের দাবিকে অস্বীকার করতে পারেনি । আমার আজকে মনে পড়ছে সেই ৫ ফেব্রুয়ারির কথা । কিছুদিন আগেই বাচ্চু রাজাকারের রায় হয়েছে ফাঁসির । বাংলাদেশের ইতিহাসে ৪২ বছর পর হলেও কোন রাজাকার কে ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে । খবর টা নিয়ে খুব ই খুশি ছিলাম । ঐদিন কাদের কসাই এর রায় দেয়ার কথা ছিল , অপেক্ষা করছিলাম । বই পড়ছিলাম , কিন্তু পড়ায় মন ছিল না । মন ছিল কখন রায় আসবে সেই দিকে । হঠাৎ করে শুনি -একি সর্বনাশ , কাদের কসাই এর ফাঁসির রায় হয়নি , হয়েছে যাবজ্জীবন । কি করব , কি করা উচিত... কিছু বুঝি নি , শুধু প্রচণ্ড কষ্ট লাগছিল । তখন ও অনলাইন জগতের সাথে আমার তেমন পরিচয় নেই । ফেসবুক একাউন্ট ছিল , সেটাতে বসা হত মাসে একবার কি দুইবার । বলতে গেলে অনলাইন এর প্রতি তেমন ইন্টারেস্ট ছিল না । মনে আছে সেদিন যেরকম কষ্ট লাগছিল , নিজের জীবনের কোন ব্যাপার নিয়েও মনে হয় কখনও এমন লাগে নাই - যেমন টা কাদের কসাই এর ফাঁসির রায় না হওয়াতে লেগেছিল । এরপর শুনলাম শাহবাগে সাধারণ মানুষ সমবেত হয়ে এই রায় এর প্রতিবাদ করছে । বুক টা গর্বে ভরে উঠল । মা কে রাজি করালাম অতি কষ্টে আমাকে শাহবাগ নিয়ে যাওয়ার জন্য । একদিন বাবা কে না বলে আমি আর মা যাই শাহবাগে । সকালে ১১ টার দিকে গিয়েছিলাম , বাসায় আসি বিকালে ৪ টায় - বাবা অফিস থেকে চলে আসবে , তা না হলে আর ও অনেকক্ষণ থাকার ইচ্ছা ছিল । মনে আছে বাসায় এসে মার সাথে অনেক রাগারাগি করেছিলাম আমাকে এত তাড়াতাড়ি নিয়ে আসল কেন সেটা নিয়ে । সেদিন ই বুঝলাম ,শাহবাগ কে ভালোবেসে ফেলেছি । বার বার আমাকে এরপর থেকে টেনে নিয়েছে শাহবাগ । সেদিন বাসায় এসে আমার এককালীন বেষ্ট ফ্রেন্ড কে ফোন করে কথা গুলো জানাই । দুইজন মিলে প্ল্যান করি যে কলেজ থেকে সবাই মিলে শাহবাগে যাব । সেইমত প্ল্যান চলতে থাকে । কখনো ভাবি নি এই কাজের জন্য শাস্তি হবে বা এই কাজ টা কেউ খারাপ চোখে দেখবে । আমার জীবনের কোন কিছুর জন্য যদি আমি নিজেকে নিয়ে গর্ব করি তাহলে সেটা হল শাহবাগে যাওয়ার জন্য শাস্তি পাওয়া । যাই হোক , এই ঘটনার পর আর ও বেশি করে ভালবাসতে শুরু করি শাহবাগ কে । কোন কাজে বাধা দিলে সেই কাজের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বাড়ে , আমি তো তার ব্যাতিক্রম না । এর মধ্যে পেপার এ দেখি "ফেসবুক থেকে রাজপথে" নামক একটা কলাম । তখন বুঝতে পারি , প্রতিদিন বাবার চোখ এড়িয়ে শাহবাগে যাওয়া যেহেতু সম্ভব না , ফেসবুক এ এই ব্যাপার নিয়ে একটিভ থাকি , কিছুটা হলেও তো নিজেকে সান্তনা দিতে পারব । এরপর টেস্ট পেপার পড়ছি , উইকিপিডিয়া দেখে একটা জিনিস বুঝার চেষ্টা করছি -এসব এর আড়ালে চলতে থাকে আমার ব্লগিং -ফেসবুকিং । এরপর নানা প্রতিবাদ , মিছিল - মিটিং , অনলাইনে- অফলাইনে রাজাকার, জামাত - শিবিরের বিরুদ্ধে তর্ক - বিতর্ক , অনেকগুলো রাজাকারের ফাঁসি প্রাপ্তি আর প্রতিদিনের ছোট - বড় নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে শাহবাগকে ভালোবেসে ফেলেছি অনেক বেশি । কাছের অনেক মানুষ দূরে সরে গিয়েছে , আরও যাবে তাও জানি -কিন্তু আমার ভালোবাসার শাহবাগ ,গনজাগরণ মঞ্চ , যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দবি থেকে আমি সরব না । "জয় বাংলা" স্লোগানটা আমার কাছে আমার জীবনের চেয়েও আপন । কন্ঠে জয় বাংলা ধ্বনি , বুকের মাঝে আমার বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা আর প্রিয় জাতীয় সঙ্গীত - "আমার সোনার বাংলা , আমি তোমায় ভালোবাসি " কে বাঁচিয়ে রাখব সারাজীবন। আমার সোনার বাংলা , তুই আমার অনেক বেশি আপন ,যে কোন কিছুর চেয়ে আপন -আমি তোকে অনেক অনেক বেশি ভালোবাসি বাংলা মা । ভালোবাসি তোর প্রাণের স্পন্দন কে , ভালোবাসি "জয় বাংলা " কে ।

আগামীকাল আমাদের আন্দোলনের চূড়ান্ত ফলাফল আমরা পেতে যাচ্ছি । শাহবাগের জাগ্রত জনতার আন্দোলন বাধ্য করেছিল আইন সংশোধন করে রাষ্ট্র পক্ষের আপিলের সুযোগ তৈরি করতে । কাদের কসাই এর বিরুদ্ধে সেই আপিলের রায় কাল । কাদের কসাই এর ফাঁসি হবে তো ? আমাদের আন্দোলন সফল হবে তো ? এক বুক বিজয়ের আশা নিয়ে কাল শাহবাগ যাব । আশা করি কাদের কসাই এর ফাঁসির রায় নিয়ে ঘরে ফিরতে পারব ।

"ক তে কাদের মোল্লা , তুই রাজাকার , তুই রাজাকার
আর কোন দাবি নাই , রাজাকারের ফাঁসি চাই ।
জয় ................... বাংলা । "

জয় বাংলা , জয় বঙ্গবন্ধু । জয় প্রজন্ম , জয় তারুন্য , জয় শাহবাগ । জয় হোক মুক্তিযুদ্ধের , জয় হোক স্বাধীনতার ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন