সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

একাত্তরের হাতিয়ার , গর্জে উঠুক আরেকবার , রাজাকারের ফাসি হোক,শহীদরা পাক ন্যায়বিচার

শায়লা আর সোহেল । নববিবাহিত দম্পতি । এক সপ্তাহ হল তাদের বিয়ে হয়েছে। দেশের অবস্থা ভাল নয় , বঙ্গবন্ধুর ডাকে সর্বাত্মক অসহযোগ পালিত হচ্ছে বাংলার সর্বত্র । শায়লা বঙ্গবন্ধুকে অনেক বেশি শ্রদ্ধা করে । তাদের গ্রামে একবার এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু । শায়লা নিজের হাতে ফুলের মালা বানিয়েছিল , বঙ্গবন্ধুকে উপহার দেয়ার জন্য । কিন্তু শায়লার পরিবার বাধা দেয় । শায়লার বাবা স্থানীয় মসজিদের ইমাম । তার কথা হল , ঘরের মেয়ে বাইরে ...যাবে , বঙ্গবন্ধুর জন্য ফুলের মালা বানাবে , এইসব চলবে না । মেয়ে মানুষ থাকবে ঘরের মধ্যে , স্বামী - সন্তানের দেখাশোনা করবে , তাদের এত দেশ -রাজনীতি নিয়ে চিন্তার দরকার নেই। ওগুলো করবে পুরুষেরা । বাবার এরকম নীচ মানসিকতা শায়লাকে অনেক বেশি কষ্ট দেয় , অনেক বেশি কাঁদায় । বাবার পা জড়িয়ে ধরে শায়লা , একবার ,অন্তত একবার সে সেই মানুষ টিকে দেখতে চায় - বাঙ্গালির জন্য যিনি এত কষ্ট করছেন , এত জেল -জুলুম -অত্যাচার সইছেন শায়লার মত সাধারন মানুষদের জন্য । একবার সেই মানুষটিকে সামনে থেকে দেখতে চায় শায়লা । নিজের তৈরি ক্ষুদ্র উপহারটুকু সেই মহামানবটির হাতে দিতে চায় । কিন্তু মেয়ের কান্নায় বাবার মন গলে না । শায়লাকে এক ঘরে দরজা -জানালা আটকে বদ্ধ করে রাখা হয় । কত বড় সাহস , ইমাম বাড়ির মেয়ে হয়ে সে ঘরের বাইরে পা রাখতে চায়, বঙ্গবন্ধুকে দেখতে চায় , কত বড় সাহস একবার দেখ !!!

আগামীকাল সাকা রাজাকারের রায় , রাজাকার সাকার ফাসি চাই

আগামীকাল সাকা নামক একটা পশুর রায় । খুন -হত্যা -নির্যাতন -অগ্নিসংযোগ -লুটপাট সহ ২৩ টি অভিযোগ রয়েছে এই সাকার বিরুদ্ধে । গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে আট মাস ব্যাপি আমাদের আন্দোলনের বিজয়ের ধারাবাহিকতায় শাহবাগ এগিয়ে যাচ্ছে আর একটি বিজয়ের দিকে , সাকা নামক পশুটির ফাঁসির রায়ের দিকে । আমি বুঝি না , মানুষের যদি নুন্যতম চিন্তাশক্তি থাকে , মনুষ্যত্ব থাকে তাহলে সে কিভাবে নিজের দেশ এর বিরোধিতা করতে পারে ? আর হত্যা -ধর্ষণ -নির্যাতনে কি আনন্দ পেয়েছিল এই রাজাকার রা যে নিজের দেশের মানুষের উপর ই এরকম স্টিম রোলার চালিয়েছিল ? সাকা , কাদের কসাই , গোলাম আজম , মুজাহিদ , কামরুজ্জামান এদেরকে মানুষ বলা যায়না , এদেরকে মানুষ বললে মনুষ্যত্বের অপমান করা হয় । ১৯৭১ এর শীর্ষ ৭৫ রাজাকারের মধ্যে একজন হল এই সাকা চৌধুরী , যে বি এন পির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও । বুঝি না , বি এন পির কি একটু লজ্জাও করে না এ ধরনের মানুষ নিয়ে দল গঠন করতে? কোন মানুষ কি কখনও অন্য মানুষের খুনির সাথে হাত মেলাতে পারে , কোন নারী কি কখনও অন্য নারীর ধর্ষকের সাথে হাত মেলাতে পারে ?

কসাই কাদের এর ফাসির জন্য আর কত অপেক্ষা প্রয়োজন ?আর কত রক্ত প্রয়োজন ????

১৯৭১ সালে যখন এই কাদের কসাই রা বাঙ্গালিদের উপর এত অত্যাচার -নির্যাতন -খুন -ধর্ষণ এতকিছু করেছিল , তখন তারা কোন আইন অনুসরন করে করেছিল ? যখন তারা সদ্য জন্ম নেয়া শিশুকে বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে মেরেছিল , যখন ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষ খুন করেছিল , যখন মসজিদে -মন্দিরে -গির্জায় -প্যাগোডায় আগুন দিয়েছিল , মসজিদে আজান দেয়ার মধ্যে বাঙালি ইমামের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দিয়েছিল - শুধু তিনি বাঙালি বলে , তখন কোথায় ছিল এতসব আইন -...মানবাধিকার ইত্যাদি এত বড় বড় বুলি ? আমরা বাংলাদেশের সাধারন মানুষ , আমরা শুধুই রাজাকারের ফাঁসি চাই , আর কোন দাবি নাই । ত্রিশ লাখ শহীদ আর দুই লাখ বীরাঙ্গনার রক্তের হিসাব কসাই আর তার সহচরেরা কিসের দোহাই দিয়ে জায়েজ করে নেবে ? আমাদের বাংলাদেশ রক্তের দামে কেনা , এই বাংলাদেশের জন্য দেশের সাধারন মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন , মুক্তিযুদ্ধ করে এই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে , এই বাংলাদেশ রক্তের দামে কেনা -কারও দয়ায় পাওয়া নয় ।

মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

জামাত -শিবির রাজাকার , এই মুহূর্তে বাংলা ছাড় ।

জামাত একটা ধর্ম ব্যবসায়ী সন্ত্রাসী দলের নাম , বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে যারা এই দেশ টির বিরোধিতা করে আসছে , এখন ও করছেই । এই দলটি ১৯৭১ এ মুক্তি যুদ্ধের বিরোধিতা করে এবং শান্তিকমিটি,রাজাকার আলবদর,আল-শামস বাহিনী গঠণ করে।মুক্তিবাহিনীর বিজয়ের পর স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু এ দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধ করেন।তিনি গোলাম আজম এর নাগরিকত্ব ও বাতিল করেন।এর নেতারা পাকিস্তানে চলে যায়।বঙ্গবন্ধু কে হত্যার পর জিয়াউর রহমান জামাতের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।গোলাম আজম কে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেন।তারা বাংলাদেশে রাজনীতির অধিকার পায়। জামাতের কাজকর্মেই বোঝা যায় যে তাদের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো তালেবানি রাষ্ট্র বানানো।কিন্তু সুপ্রাচীন কাল থেকে বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক,বাঙালি অসাম্প্রদায়িক।বাংলাদেশ কখনোই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিশ্বাস করে না যার প্রমাণ আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি,আমাদের ইতিহাস।আমাদের পতাকা।

সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

সাকা একটি পশুর নাম , রাজাকার সাকার ফাঁসি চাই

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী মানে সাকা নামক একটা পশুর রায় এই সপ্তাহেই । ১৯৭১ সালে বাঙালি হয়ে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল যে কুলাঙ্গার রা , তার মধ্যে অন্যতম একজন হল এই পশু । খুন - হত্যা -অগ্নিসংযোগ - নির্যাতন , কি এমন অপরাধ আছে যা সে করেনি ?

১৯৭১ সালের ৪ বা ৫ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার পর মতিলাল চৌধুরী, অরুন চৌধুরী, যোগেশ চন্দ্র দে, ও পরিতোষ দাস, পাচক সুনীল প্রমুখ বন্ধুগণ একত্রিত হয়ে শহীদ মতিলাল চৌধুরীর চট্টগ্রাম শহরের কোতোয়ালি থানাধীন রামজন লেনের বাসভবনে দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনারত ছিলেন। আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী আব্দুস সেবাহান এ বাড়িতে ঢুকে তাদের দেখে সঙ্গে সঙ্গে বাসা থেকে বেরিয়ে গুডসহিলে খবর দেয়। তার ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই দুই ট্রাক পাকিস্তানী সৈন্যদের সঙ্গে নিয়ে উক্ত সোবহান বাসাটি ঘেরাও করে ফেলে এবং তাদের অপহরণ করে ট্রাকে তুলে গুডসহিলে নিয়ে যায়। পাচক সুনীলকে আটক ও অপহরণ করে আর্মির ট্রাকে তুলে গুডসহিলে নিয়ে যায়। পাচক বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুণ হওয়ায় তাকে গুডসহিলের নির্যাতন কেন্দ্র থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু বাকি ৬ জনকে আটক করা হয়। ছাড়া পাওয়ার কিছুক্ষণ পর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী উক্ত আব্দুস সোবহান মতিলাল চৌধুরীর বাসার সামনে সুনীলকে দেখতে পেয়ে সে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হওয়ায় প্রমাণ বিনষ্ট করার জন্য তালোয়ার দিয়ে কোপাতে শুরু করে। কিন্তু অপহরণ করে গুডসহিলে নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে আটক করে রাখা সেই ৬ ব্যক্তির আর কোন হদিস পাওয়া যায়নি।

রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

মায়ের বক্ষ ঝাঁঝরা করিয়া হাসিয়াছে অট্টহাসি , বাঙালি হাসিবে পরাণ ভরিয়া দেখিয়া রাজাকারের ফাঁসি

মধ্যরাতে ঘুমের ঘোরে পাশে রাখা ডায়েরি টার দিকে হাত চলে যায় । নিস্তব্ধতার মাঝে অশান্ত আকুলতায় উল্টাতে থাকি পাতাগুলো । না , কোন নির্দিষ্ট ঘটনা খুঁজে বের করতে চাইছি না । চঞ্চল হাতে শুধু উল্টে যাচ্ছি প্রতিদিনের স্মৃতিগুলো । কিন্তু হটাত করে আমার হাত থেমে গেল কেন ? ঘুম থেকে তখন পুরোপুরি জেগে উঠেছি । কোন পাতায় এসে থেমে গেলাম , নিতান্ত কৌতূহল বশতই লেখার দিকে তাকালাম । হ্যা ,আমি থেমে গিয়েছি সেই পাতাটায় এসে , যেটাতে আমার সবচেয়ে কাছের বান্ধবির সাথে আমার শেষ কথার স্মৃতিটুকু লেখা আছে । দিনটি ১৫ ই জুন , ২০১৩। গনজাগরন মঞ্চ নিয়ে সেদিন কলেজে তুমুল তর্ক হয় একসময়ের সবচেয়ে কাছের বান্ধবির সাথে ।

বাক্সবন্দি মধ্যবিত্ত



রিহান আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে । প্রতিরাতেই লোডশেডিং চলাকালিন সময়টুকু সে আকাশ দেখার কাজে ব্যায় করে । সে যে অযথাই আকাশ দেখে তাও কিন্তু না । সে আকাশ দেখার ফাকে নতুন নতুন গল্প প্রসব করে । তবে সে এখনো জানে না তার লেখা গুলো আদৌ গল্পের রূপ ধারণ করতে পেরেছে কিনা । তার ধারণা সে যেসব গল্প লিখে সবই নাকি জগাখিচুড়ীর একেকটা নতুন রেসিপি । জগাখিচুড়ী থেকে তার হঠাত্‍ মনে পড়ল , একদিন ডাকসুর খিচুড়ি খেতে হবে । এক বড় ভাইয়ের কাছে শুনেছে ডাকসুর খিচুড়ীর স্বাদ নাকি নান্নার বিরিয়ানীকেও হার মানায় । যদিও সে এখনও নান্নার বিরিয়ানীও খায় নি ।

শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

আজ বিজয় আনন্দ বুকে নিয়ে চূড়ান্ত বিজয়ের অপেক্ষা , রাজাকার মুক্ত বাংলাদেশে বিজয় দিবস উদজাপনের অপেক্ষা

একজন , দুইজন , তিনজন করে ধীরে ধীরে পঞ্চাশজন - একশজন
একটি দাবি , রাজাকারের ফাঁসি -একটি স্লোগান , জয় বাংলা
এরপর ? এরপর সে তো ইতিহাস ! শাহবাগ চত্বরে প্রজন্মের নবজাগরণ
রক্তভেজা বাংলার হৃদয়ে নতুন এক শিহরণ , নতুন এক আশার পদধ্বনি
এদেশের দামাল সন্তানেরা যে এখনও হারিয়ে যায় নি !
ব্যানারে - প্ল্যাকার্ডে , স্লোগানে - স্লোগানে মুখরিত শাহবাগ ,
তারই সাথে আজ নবচেতনার নব জয় জয়কার ।
"একটাই দাবি -ফাঁসি , ফাঁসি /আর কোন দাবি নাই , রাজাকারের ফাঁসি চাই"
প্রতিজ্ঞায় জাগ্রত তরুন প্রানের দীপ্ত পদচারনায় মুখরিত আমার শাহবাগ ।

শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

এই পথে আজ জীবন দেব , রক্তের বদলা ফাঁসিতে নেব

নিঝুম রাত । চারপাশ স্তব্ধ । সবাই যার যার ঘরে ঢুকে দরজা আটকে বসে আছে । দরজা - জানালার পর্দা টেনে দিয়ে নিচু ভলিউমে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চলছে রহিমা দের বাসায় । রহিমা , তার মা সালমা আর বাবা কাসেম থাকে এই বাড়িতে। রহিমার বড় দুই ভাই - বোন সালেহা আর করিম অনেক আগেই ওপারে চলে গেছে মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিং নিতে । রহিমার বয়স কম বলে বাবা - মা ওকে যেতে দেয়নি । তাই বলে সবার থেকে রহিমা কিন্তু পিছিয়ে নেই । এলাকায় যখন ই কোন মুক্তিবাহিনীর দল আসে , রহিমা খুজে খুজে তাদের কে বের করে নিজেদের বাসায় নিয়ে আসে । ওদের কে রান্না করে খাওয়ায় , যথাসাধ্য ভাল রাখার চেষ্টা করে । ওরা নিজেরাও অনেক গরিব - বাবা দর্জি , মা মানুষ জনের বাসায় কাজ করে টাকা রোজগার করে । তারপর ও রহিমা আর তার বাবা - মা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে পাকিস্তানিদের হাত থেকে প্রিয় বাংলাদেশ কে স্বাধীন করতে লড়তে আসা এই মুক্তিযোদ্ধাদের যাতে কোন কষ্ট না হয় । মাঝে মাঝে বোরখা পরে পাক বাহিনীর ক্যাম্পের উপর নজর রাখার কাজ টাও করে রহিমা । কোন সময় পাকিস্তানিরা পাহারা দেয় , কোন সময় মাতাল হয় , কোন সময় অসতর্ক থাকে সব খবর এনে মুক্তিযোদ্ধাদের দেয় রহিমা ।

বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

তুমি আমার আকাশ থেকে সরাও তোমার ছায়া , রাজাকার - তুমি বাংলা ছাড়ো !

রেশমা তার ছোট্ট মেয়ে সুরমা কে নিয়ে বেড়াতে বের হয়েছে । আজকে শুক্রবার । ওরা আজকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘর দেখতে যাবে । সুরমা ক্লাস ওয়ান এ পড়ে। এর মধ্যেই দেশের ইতিহাস জানার ব্যপারে সে অনেক আগ্রহী । তাই জাদুঘরে যাওয়ার ব্যপারে তার উৎসাহের শেষ নেই। রাস্তায় আসতে আসতে মা এর কাছে সুরমা অনেক কিছুই জানতে পারে বাংলাদেশের ইতিহাস ,ঐতিহ্য ,মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে। মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাগুলো শুনতে সুরমার অনেক ভালো লাগে ,তার গর্ব হয় এরকম একটা দেশে সে জন্মগ্রহণ করেছে যে দেশটার রয়েছে এত রক্তমাখা ইতিহাস। তার আরও ভাল লাগে যখন সে দেখে তার মত ছোট ছোট শিশুরাও সেদিন মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো বাংলার অকুতোভয় বীর সৈনিকদের সেবা দিয়ে , তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছিল ১৯৭১ এ তার মতই আরও অনেকে যারা বাংলাদেশ টাকে সুরমার মতই অনেক অনেক বেশি ভালোবাসে। ১৯৫২ ,১৯৬২ ,১৯৬৬ ,১৯৬৯ ,১৯৭১ এর বীর শহীদদের কথা , বীর মুক্তিযোদ্ধদের কথা যতবার সে পড়ে ততবার গর্বে - আনন্দে তার বুক ফুলে ওঠে। ক্লাসের বিদেশী বন্ধুদের কাছে প্রিয় বাংলাদেশটাকে নিয়ে অনেক গর্ব সুরমার ,মাতৃরূপী এই দেশটাকে অনেক ভালোবাসে সে।

বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

আসছি ভোরের ডাকে , দুচোখ চেয়ে থাকে ......।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে যখন শাহবাগে রাজাকার বিরোধী আন্দোলন , রাজাকারের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন শুরু হল , তখন কত মানুষের কত ই না অভিযোগ এই আন্দোলন নিয়ে । ৪২ বছর পর এই আন্দোলন শুরু করার মানে কি , বাংলাদেশে এক সময় রাজাকার রা মন্ত্রী হয়েছে , এই দেশে রাজাকারের ফাসি সম্ভব না , মোমবাতি জ্বালিয়ে আর স্লোগান দিয়ে বিপ্লব হবে না , শাহবাগে সব নষ্ট ছেলেমেয়ে , শাহবাগ নাস্তিক দের জায়গা , গনজাগরন মঞ্চ নাস্তিক দের মঞ্চ , আরও কত বাধা এই রাজাকার বিরোধী জাগরন টাকে বন্ধ করার জন্য । এরপর ও আমরা থামি নি , দিনের পর দিন , রাতের পর রাত শাহবাগে আমাদের অবস্থান চালিয়ে গেছি । আমাদের আন্দোলনের হাত ধরে এসেছে আইন সংশোধন করে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের সুযোগ তৈরি আর যার ফলাফল আজকে কাদের কসাই এর ফাঁসির রায় ।

মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

আজকে কাদের কসাই এর ফাসির রায় হয়েছে , আজকে জনতার বিজয় হয়েছে , আজকে শাহবাগের বিজয় হয়েছে

ফাঁসির রায় শোনার সাথে সাথে মা কে খবর টা দিতে ছুটে গিয়েছিলাম । মা রান্না করছিল , একটু পর আমি আর আমার ভাই বের হব স্কুল - কলেজের জন্য , এরকম ই প্ল্যান । মা রান্নায় ব্যাস্ত , আমি পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে নিজের অজান্তেই কেঁদে ফেললাম । আম্মু তো পুরাই অবাক , মেয়ে এইরকম হাউমাউ করে কাদতেসে কেন !!! গতকাল আম্মুকে বলছিলাম যে আজকে কাদের কসাই এর রায় দিবে , আমার কান্নাকাটি দেখে আম্মু ভেবেছে হয়ত ফাঁসি হয়নাই । আম্মু আমাকে সান্তনা দেয়া শুরু করল - তোদের আন্দোলন ব্যর্থ না ,তুই কাঁদিস না ইত্যাদি বলে । কোনরকমে নিজেকে সামলায় নিয়ে আম্মুকে বুঝাইলাম যে আম্মু আমি খুশিতে কাদতেসি , কাদের কসাই এর ফাসির রায় হয়েছে , আমাদের আন্দোলন সফল হয়েছে , আমি বিজয়ের আনন্দে কাদতেসি ।

অবশেষে কাদের কসাই এর ফাঁসির রায় হয়েছে , অবশেষে রাজাকার দের বিরুদ্ধে বাঙ্গালির বিজয় হয়েছে

অবশেষে কাদের কসাই এর ফাঁসির রায় হয়েছে । সেই ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে আজকে ১৭ ই সেপ্টেম্বর । দীর্ঘ আট মাস ধরে আজকের দিনটির জন্যই অপেক্ষা করেছি আমরা । কাদের কসাই এর বিজয় চিহ্ন সহ্য করতে না পেরে শাহবাগে আপামর জনতার জাগরনের চূড়ান্ত ফলাফল আজ। আজকে কাদের কসাই এর ফাঁসির রায় হয়েছে । ধর্ম ব্যবসায়ী পাকিস্তানি চরদের বিরুদ্ধে দেশপ্রেমী বাঙালি জনতার জয় হয়েছে । আজকের রায় শুধু একটা রায় নয় , এটা আপামর জনতার

সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

আগামীকাল কাদের কসাই এর রায় , আশা করি নিরাশ হব না ।

স্মৃতিতে একাত্তর , স্মৃতিতে ৫ ফেব্রুয়ারি , ২০১৩ । সেদিন আমরা শাহবাগে এক হয়েছিলাম বাংলার মাটিতে কাদের কসাই এর হাতে বিজয় চিহ্ন সহ্য করতে না পেরে , মা জাহানারা ইমাম এর স্বপ্ন সফল করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে । মুক্তিযুদ্ধের ৪২ বছর পর বাংলাদেশ আবার শুনল... তার সন্তান দের গর্জন । উদ্যত মুষ্টিবদ্ধ হাতে বাংলার জনতা শাহবাগে সমবেত হয়ে ঘোষণা দেয় তাদের আর কোন দাবি নেই , তারা শুধুই রাজাকারের ফাঁসি চায় । পাঁচ বছরের ছোট্ট শিশু থেকে শতবর্ষী বৃদ্ধ মা - বাবা , কোন বাঙালি ই নিজের প্রানের দাবিকে অস্বীকার করতে পারেনি । আমার আজকে মনে পড়ছে সেই ৫ ফেব্রুয়ারির কথা । কিছুদিন আগেই বাচ্চু রাজাকারের রায় হয়েছে ফাঁসির । বাংলাদেশের ইতিহাসে ৪২ বছর পর হলেও কোন রাজাকার কে ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে । খবর টা নিয়ে খুব ই খুশি ছিলাম । ঐদিন কাদের কসাই এর রায় দেয়ার কথা ছিল , অপেক্ষা করছিলাম । বই পড়ছিলাম , কিন্তু পড়ায় মন ছিল না । মন ছিল কখন রায় আসবে সেই দিকে । হঠাৎ করে শুনি -একি সর্বনাশ , কাদের কসাই এর ফাঁসির রায় হয়নি , হয়েছে যাবজ্জীবন । কি করব , কি করা উচিত... কিছু বুঝি নি , শুধু প্রচণ্ড কষ্ট লাগছিল । তখন ও অনলাইন জগতের সাথে আমার তেমন পরিচয় নেই । ফেসবুক একাউন্ট ছিল , সেটাতে বসা হত মাসে একবার কি দুইবার । বলতে গেলে অনলাইন এর প্রতি তেমন ইন্টারেস্ট ছিল না । মনে আছে সেদিন যেরকম কষ্ট লাগছিল , নিজের জীবনের কোন ব্যাপার নিয়েও মনে হয় কখনও এমন লাগে নাই - যেমন টা কাদের কসাই এর ফাঁসির রায় না হওয়াতে লেগেছিল ।

একদা কাঠমোল্লাদের দৌড়ানি দিসিলাম

এটি ৬ এপ্রিল এর ঘটনা
আজকে দুপুর ১টায় হরতালের কারণে , ঢাকা যাওয়া কেন্সেল করলাম । আমার অভ্যাস আমি দুপুরবেলায় নাস্তা খাই । তো আমি নাস্তা খাইতেসি এমন সময় শাহবাগ থেকে এক বড় ভাই ফেসবুকে ম্যাসেজ পাটাইলো । ম্যাসেজটা এমন যে , "তাড়াতাড়ি শাহবাগে আসো , হেফাজতি ভন্ডরা শাহবাগে আক্রমণ করবে ।" আমারে আর পায় কে , আদনানরে কইলাম , "তুই যাবি ?" আদনানে কইলো , "শাহবাগ থেকে ডাক আসসে , আর আমি যামু না , এইটা কী হয় ।" আমি কইলাম , "তাইলে চল ।" তখন দুপুর ১ টা ৩০ । যাত্রাবাড়ি তখন হেফাজতি ভন্ডদের দখলে । আর বাস , ট্রেনও চলতেসে না । তাই ২ নং রেলগেইট থেকে অটোরিকশায় পাগলা পর্যন্ত গেলাম । এরপর আরও দুইবা অটোরিকশা চেঞ্জ করতে হইসে । শেষমেশ পোস্তগলা থেকে রিকশা নিয়ে গুলিস্তানে গেলাম । গুশিস্তান থেকে আবার রিকশা নিয়ে টি.এস.সি পর্যন্ত গেলাম । এরপর হেটে হেটে শাহবাগে গেলাম । তখন স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত শাহবাগের আকাশ বাতাস । আমরা স্লোগান দেয়ার পর চা খেতে গেলাম । চা শেষ করে মাত্র কাপটা রাখসি । হঠাত্‍ , দেখি সবাই বাঁশ-কাঠ খোজা খোজি করতেসে । অনেকে মত্‍স ভবনের দিকে দৌড়াইতেসে । আমি আর আদনানও ঐ দিকে দৌড় দিলাম । যেয়ে দেখি , হেফাজতি ভন্ডরা দলবল নিয়ে শাহবাগের দিকে আসতেসে , আমাদের দিকে ইট ছূড়ে মারতেসে । আমি তাড়াতাড়ি একটা কাঠ যোগাড় করলাম । আদনানেও একটা বাশ যোগাড় করল । সবাই একসাথে দৌড় দিলাম হেফাজতি ভন্ডদের দিকে । হেফাজতি ভন্ডরা উল্টা ঘুইড়া দিলো দৌড় । আমরা আবার শাহবাগে ফিরে আসলাম । আবার স্লোগান দেয়া শুরু করলাম । হেফাজতি ভন্ডরা হোটেল রূপসি বাংলার দিক দিয়ে হামলা শুরু করলো । আমরাও বাঁশের লাঠি আর কাঠ নিয়ে ঐ দিকে দৌড় দিলাম । তখন পুলিশ হোটেল রূপসি বাংলার সামনে বেড়িকেড দিয়ে দিলো । তাই হেফাজতে ভন্ডরা আবার উল্টা ঘুইরা দৌড় শুরু করলো । এখন বাসায় ফিরে যাচ্ছি । কিন্তু বাংলা মায়ের অসংখ্য সৈনিকেরা শাহবাগ পাহাড়া দিতেসে ।
জয় বাংলা , বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক

বন্ধু এবং বৃষ্টি

প্রত্যেক বর্ষাতেই বৃষ্টিতে ভেজা যেনো বাধ্যতামূলক ব্যাপার স্যাপার । যতদিন বৃষ্টি হবে , ততদিন ওরা ভিজবে । ওরা দুই বন্ধু । আকাশের কান্না শুরু হলেই একজন আরেকজনকে ফোন দিবে , "কীরে ভিজবি না ?" অপর প্রান্ত থেকে উত্তর আসবে , "আমি তো রেডি । তুই কই ?" এরপর মনের সাধ মিটিয়ে বৃষ্টিতে ভেজা । শরীর জমে গেলে , শরীর গরম করার জন্যে টং এর দোকানে নিকোটিন আর চা পান । এরপর শুরু হবে আড্ডা । একেবারে যাকে বলে , চায়ের কাপে ঝড় ।

স্বপ্নবিলাস

জনমানব শূণ্য পথ , যানবাহনের আনাগোনাও তেমন একটা নেই । আকাশ পানে চেয়ে , সে পথিমধ্যে শুয়ে আছে । বৃষ্টির প্রতিটি ফোটা তার মনকে ছুয়ে যাচ্ছে । সে হঠাত্‍ উপলব্ধি করল , তার পাশে এক নারীমূর্তি বসে আছে । তার চিনতে ভূল হলো না । তার প্রিয়তমাই তার পাশে বসে আছে । আজ তার রূপ যেন ঠিকড়ে পরছে । প্রিয়তমা আজ কালো শাড়ি পরেছে , চোখে কাজল দিয়েছে , চুলে কালো গোলাপ । তাকে দেখতে ঐ কালো গোলাপের মতই পবিত্র মনে হচ্ছে ।

ছোট ছোট দুঃখ

পরের দিনই ছেলেটি তার জীবনের ৯ম বর্ষায় পদার্পণ করতে যাচ্ছে । তাই সে ছোট একটি আবদার করেছে , সে কেক কাটবে । কিন্তু ছেলেটির পরিবারের জন্যে কেক কেনা বিলাসিতার সমতুল্য । ৮ বছর বয়সি শিশুর মন তো আর অর্থাভাব বুঝে না । তাই সেই ছোট্ট মনটি কেদেই যাচ্ছে । তার মা বলেছে তাকে কিছু মিষ্টি কিনে দিবে । না , সে এসব বুঝতে চায় না । তার কেক চাই । জন্মদিনের কেক ।

যেমনে শাহবাগী হইলাম

আমি ফেসবুক ইউজ করি ৪ বছর হইসে । কিন্তু ব্লগ ট্লগ লিখতাম না । ফেসবুকআমার নেশা । দিন রাত ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৪ ঘন্টাই ফেসবুকে পইড়া থাকতাম , এহনও ফেসবুকে পইড়া থাকি । কিন্তু ৫ ফেব্রুয়ারীর পর থেকে ফেসবুক ব্যবহারের ধরণটাই পাল্টাইয়া গেসে । আগে ফেসবুকে আইতাম হুদাই আড্ডা দিতাম , মজা লইতাম । এহন আর হুদ্দা কামে ফেসবুকে আসি না ।

একটি অসমাপ্ত গল্প

রৌদ্রজ্জ্বল বিকেল । পাহাড়ের পাদদেশে সাগরের জলরাশি আছড়ে পড়ছে । পাহাড়ের চূড়ায় একটি গাছ । গাছের মগডালে সে বসে আছে । সে দিগন্তপানে চেয়ে আছে । একটি শংখচিল দেখা যাচ্ছে । মাতাল হাওয়া বইছে । বাতাসে তার চুল উড়ছে । সে শংখচিলটিকে দেখছে । হয়তো সে ডানা মেলে উড়ে যেতে চাইছে । সে তো মানুষ । কিন্তু তার মন আজ পাখির মতো । তার মুখমন্ডলে সুখের ছায়া পড়েছে । সে আজ সুখের ভেলায় ভেসে বেড়াচ্ছে । সে আজ স্বাধীন । সে আজ পাখি হয়ে উড়তে চায় ।

রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

রক্তিম পতাকা , রক্তিম পার্বতী , রক্তিম ভালোবাসা

"আর যদি একটা গুলি চলে , আর যদি আমার লোক দের হত্যা করা হয় , তোমাদের সবার কাছে অনুরধ রইল , প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল । মনে রাখবা , রক্ত যখন দিয়েছি , রক্ত আর ও দেব - এদেশের মানুষ কে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ । এবারের সংগ্রাম , আমাদের মুক্তির সংগ্রাম - এবারের সংগ্রাম , স্বাধীনতার সংগ্রাম । জয় বাংলা " । - রেডিও তে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনছিল পার্বতী ।

যদি রাত পোহালেই শোনা যেত , বঙ্গবন্ধু মরে নাই ...

১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ।তাঁর বাবা শেখ লুৎফুর রহমান গোপালগঞ্জের সিভিল কোর্টে রেকর্ড সংরক্ষণের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।তিন বোন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।গোপালগঞ্জ প্রাইমারী স্কুল এবং মাদারীপুর ইসলামিয়া হাই স্কুলে তিনি লেখাপড়া করেছিলেন।১৯৩৪ সালে চোখের অপারেশনের জন্য তাকে স্কুল বন্ধ রাখতে হয়।অপারেশনটি থেকে সেরে উঠতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয় এবং চার বছর পর তিনি স্কুলে ফিরে আসেন।১৮ বছর বয়সে তিনি শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব কে বিয়ে করেন।তাঁদের ২ জন কন্যা -শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং তিন জন পুত্র -শেখ কামাল,শেখ জামাল ও শেখ রাসেল জন্মগ্রহণ করে।

জয় বাংলা , জয় হোক বাংলার , জয় হোক বাঙ্গালির

কলেজে আমার এক সময় খুব কাছের একজন বন্ধু ছিল - নাম ভাষা । কলেজের সবাই , এমন কি ব্যক্তিগত জীবনে কলেজের বাইরে যারা আমাকে চিনত সবাই জানত ভাষা আমার কেমন বন্ধু । ইন ফ্যাক্ট , কলেজের শিক্ষক রাও বলতেন - তোরা দুইটা তো সারাদিন ম্যগনেটের মত থাকিস ! আমরা তখন আসলেই একজন আরেকজনের খুব কাছের মানুষ ছিলাম। ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শাহবাগ গনজাগরন মঞ্চ নিয়ে আমাদের দুইজনের ধীরে ধীরে মতের অমিল হতে থাকে । তারপর শাহবাগে যাওয়ার জন্য আমাকে কলেজ থেকে সাময়িক ভাবে বহিষ্কৃত করা হয় - সেই থেকে সে ধীরে ধীরে দূরে সরতে থাকে আমার থেকে , আমি ভাবতাম যে এগুলো গা বাঁচিয়ে চলার চেষ্টা । কিন্তু আসলেই যে ভাষা ধীরে ধীরে আমার বিপক্ষে চলে যাচ্ছিল সেটা তখন ক্ষুনাক্ষরেও বুঝতে পারিনি ।

কাদতে আসিনি , ফাসির দাবি নিয়ে এসেছি

আজ আমি এসেছি কাদের কসাইএর ফাঁসির দাবি নিয়ে
আজ আমি এসেছি গোলাম আজমের ফাঁসির দাবি নিয়ে
আজ আমি এসেছি সাইদি - নিজামির ফাঁসির দাবি নিয়ে
আজ আমি এসেছি কামরুজ্জামান - সাকা চৌধুরীর ফাঁসির দাবি নিয়ে
আজ আমি এসেছি মুজাহিদ রাজাকারের ফাঁসির দাবি নিয়ে

শাহবাগে রাত ভোর , স্মৃতিতে একাত্তর । নব ইতিহাসের সাক্ষী রইল প্রজন্ম চত্বর ।

একটি মেয়ে , নাম অপ্সরা । ছোটবেলা থেকে মা বাদে আর সবার কাছে শুধু উপেক্ষাই পেয়েছে সে । অনেক ছোট বেলায় , কেবল কথা বলতে শিখেছে তখন - ওর নানু বাড়ির লোকেরা ইচ্ছা করে ওর গায়ে গরম পানি ঢেলে দেয় , পোড়া শরীর , সারা শরীরে ব্যন্ডেজ করা মেয়ে কে নিয়ে ওর মা সৌদি আরবে ওর বাবার কাছে চলে যান । কিন্তু এই মেয়ের কারো সাথেই যেন বন্ধুত্ব হতে মানা - বাবা সিগারেট খেতে গেলে সে সিগারেট নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয় একদিন , বাবার বিরাগভাজন হয়ে যায় সেদিন থেকেই ।

একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি , হাসি হাসি পরব ফাঁসি - দেখবে বিশ্ববাসী ।

২৯ আগস্ট , ২০১৩। ৪২ বছর আগে এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার রা ঢাকার অনেক গুলো গেরিলা হাইডআউটে আক্রমন চালায় , ধরে নিয়ে যায় রুমি - বদি - আজাদ - আলতাফ মাহমুদ - জুয়েল সহ ক্র্যাক প্লাটুনের আরও অনেক অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের । ধরা পরার আগ মুহূর্তে রুমি মা জাহানারা ইমাম এর কোলে শুয়ে ছিল , মা ছেলের চুলে বিলি কেটে দিচ্ছিলেন - আর রেডিও তে বাজছিল "একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি " । রুমি একটু অবাক হয়ে মা কে প্রশ্ন করে , এক ই দিনে এক ই গান তিন বার শুনলাম , ব্যপার টা কি !!! রুমি তখনও জানে না সেই দিনটি ছিল রুমির হাসি মুখে ফাসি পরার দিন। পাক হানাদাররা রুমির বাবা শরীফ ইমাম আর ভাই জামি কে ছেড়ে দেয় অনেক অত্যাচারের পর ।কিন্তু রুমি - বদি - আজাদ - আলতাফ মাহমুদ - জুয়েল দের ছাড়ে না। ১৯৭১ এর সেপ্টেম্বরের কোন এক রাতে ঢাকার প্রায় ১০০ মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করে পাকিস্তানি বাহিনী ।

আমি দেখিনি একাত্তর দেখেছি ঐ শাহবাগ , নবীনের জাগরণে বাংলাদেশ হতবাক !

৫ ফেব্রুয়ারি রাত । কিছুদিন আগেই বাচ্চু রাজাকারের রায় হয়েছে ফাঁসির  । বাংলাদেশের ইতিহাসে ৪২ বছর পর হলেও কোন রাজাকার কে ফাঁসির রায় দেয়া হয়েছে । খবর টা নিয়ে খুব ই খুশি ছিলাম । ঐদিন কাদের কসাই এর রায় দেয়ার কথা ছিল , অপেক্ষা করছিলাম । বই পড়ছিলাম , কিন্তু পড়ায় মন ছিল না । মন ছিল কখন রায় আসবে সেই দিকে । হঠাৎ করে শুনি -একি সর্বনাশ , কাদের কসাই এর ফাঁসির রায় হয়নি , হয়েছে যাবজ্জীবন । কি করব , কি করা উচিত... কিছু বুঝি নি , শুধু প্রচণ্ড কষ্ট লাগছিল ।

প্রস্তুত থাকতে হবে আর ও অনেক রক্তক্ষরন শেষে "বিজয় " নামক রক্তিম সূর্যের উদয় এর জন্য।

রাজীব - দীপ - তুহিন - তন্ময় - রুহুল আমিন -গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠন উদীচী নেতা আরিফ নূর কিছুদিন  আগে হামলার শিকার হয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। আর কি বলব ? কিছু বলার নেই । মৃত্যুকে বরন করে নিয়েই আমাদের এই পথে আসা , আর... সেই শপথ কে সত্যি প্রমানিত করতেই যেন আমাদের সহযোদ্ধাদের উপর একের পর এক হামলা। আমি জানি এসবের কোন সমাধান নেই , আমি জানি এরকম একের পর এক সহযোদ্ধার উপর আক্রমন হতেই থাকবে যতদিন জামাত - শিবির নামক পাকিস্তানি কুকুর গুলা এই বাংলার মাটিতে থাকবে । কি আর করা ? বাঙালি তো প্রতিকূলের যাত্রী , ধ্বংস স্তূপে দাঁড়িয়েও আমরা স্বপ্ন দেখতে পারি , বলতে পারি - "আমার সোনার বাংলা , আমি তোমায় ভালোবাসি । " সেই গান ই গেয়ে যাব যতক্ষণ আমার পালা না আসে । রক্ত দিয়ে দেশ টা স্বাধীন হয়েছিল পাকিস্তানি হানাদার দের হাত থেকে , আর কত রক্ত না জানি দিতে হবে দেশটাকে সেই হানাদার দের দালাল থেকে মুক্ত করতে। একটা কথাই বলি , দেশ দ্রোহীদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজের জীবন দিতে কোন বাঙালি কখনও পিছপা হয়নি , হবেও না । বাঙালি রক্তদানের পুণ্য জানে , আর তাই শপথের কোলাহলে আত্মাকে সঁপে দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না । "স্বাধীন দেশ জীবিত গেরিলা দের চায়না , তার চাই শহীদ । দেশপ্রেমিক শহীদের রক্তে স্বদেশের পুণ্যভূমি প্লাবিত হলে তবেই আসে কাঙ্খিত মুক্তি " - রক্ত দিয়ে স্বদেশের পুণ্যভূমি প্লাবিত করে পরাধীনতার নাগপাশ থেকে বাংলা মা কে মুক্ত করার শপথ নিয়েই ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা । আজ ৪২ বছর পর আমরা গনজাগরন মঞ্চে "জয় বাংলা " স্লোগান তুলেছি সেই এক ই শপথ নিয়ে । এ পথে অনেক বাধা , আর ও অনেক রক্ত ঝরবেই । আমাদের মনে রাখতে হবে মা জাহানারা ইমাম এর সেই অমর বানী - " এ আন্দোলনকে সুদূরের পথ পাড়ি দিতে হবে । আমি জানি জনগনের চেয়ে বিশ্বস্ত কেউ নেই । জয় আমাদের হবেই । " শহীদ জননীর বিশ্বাস রক্ষা করার জন্য আমাদেরকে অন্তর থেকে প্রস্তুত থাকতে হবে - প্রস্তুত থাকতে হবে আর ও অনেক রক্তক্ষরন শেষে "বিজয় " নামক রক্তিম সূর্যের উদয় এর জন্য।

জয় বাংলা , জয় বঙ্গবন্ধু । জয় প্রজন্ম , জয় তারুন্য , জয় শাহবাগ । জয় হোক মুক্তিযুদ্ধের , জয় হোক স্বাধীনতার

আর কোন দাবি নাই , রাজাকারের ফাঁসি চাই


আজকে আপনার মা কে কেউ অসম্মান করলে আপনি সহ্য করতে পারবেন ? তাহলে বাংলা মা এর অপমান কেমনে সহ্য করেন ? রাজাকার কারা জানেন? বাংলাদেশ যদি মা হয় তাহলে এই বাংলা মাকে ধর্ষণ করেছিল যারা তারা হল রাজাকার । বাংলা মা এর বুকে রক্তের বন্যা বইয়েছিল , নারী ...- পুরুষ , শিশু সন্তান -কাউকে এরা রেহাই দেয় নি । তারপর ও বাংলার বুকে এরা এখনো দাপট দেখিয়ে ঘুরে বেড়ায় । রাজাকারের গাড়িতে এখন ও বাংলার লাল- সবুজ পতাকা ওড়ে । রাজাকার , খুনি , ধর্ষক রা স্বাধীন বাংলাদেশ এ বিজয় চিহ্ন দেখায় । অন্যদিকে ১৯৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা নিজের রক্ত বিক্রি করে , মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্র বিক্রি করে জিবিকা চালান...।

সারা বাংলা থেকে এক সুরে রব ওঠে - " জয় বাংলা ...। "

সারা বাংলা থেকে এক সুরে রব ওঠে - " জয় বাংলা ...। "

পরিবারের সবার বাধ্য ছেলেটি আজ কি এক ভালোবাসার টানে ঘর ছেড়েছে ,
সবচেয়ে আদরের মেয়েটি আজ অন্তরে কিসের যেন তাগিদ অনুভব করছে !
এ কি ? সে তো একা নয় ! এ তাগিদ , এ ভালোবাসার টান তো তার একার নয়
লাখ লাখ ছেলেমেয়ের চোখে - মুখে এ কি অদ্ভুত উত্তেজনা !

দেশটা তো আমাদের ই , আমরাই তো বাংলাদেশ !

প্রতি মুহূর্তে কতই না কমপ্লেইন আমাদের ! দেশের এটা ভাল না , ওটা উন্নত না , রাস্তায় জ্যাম , শিক্ষা ব্যবস্থা যুগোপযোগী না , জামাত - শিবির নিষিদ্ধ হয় নাই - আর ও কত কমপ্লেইন , তাই না ? কিন্তু একবার কি সবাই ভেবে দেখেছেন আমরা নিজেদের অংশ টুকু ঠিক ...ভাবে করছি কিনা ? মা যত গরীব ই হোক না কেন , সে আমার মা । তেমনি দেশ টা যত গরীব ই হোক না কেন , যত সমস্যাই থাকুক না কেন , এটা তো আমাদের দেশ , আমাদের নিজেদের দেশ - বাংলাদেশ । আমেরিকা , লন্ডন এ গিয়ে হয়ত অনেক ভাল থাকতে পারবেন আপনি এর চেয়ে , কিন্তু সেখানে আপনি সেই দেশের কেউ নন , আপনি প্রবাসী , আপনি বিদেশী সেখানে । সেখানের আলো - বাতাসে আপনার প্রান শান্ত হবে না , কারন সেটা আপনার জন্মভূমি নয় , আপনার দেশ নয় সেটা । কাজেই বাংলাদেশ টাকে নিয়ে এত কমপ্লেইন করা বাদ দিয়ে আমরা কি নিজেরা নিজেদের দায়িত্ব টুকু আর একটু যত্ন করে পালন করতে পারি না ? আমরা জামাত নিষিদ্ধের কথা বলি , নিষিদ্ধ না হলে আন্দোলন করি - ভাবি যে জামাত নিষিদ্ধের উপায় তো আমাদের হাতে নেই । কে বলেছে নেই ? হয়ত অনেক সময়সাপেক্ষ , কিন্তু উপায় আছে । সেটি হল আমাদের প্রত্যেকের একই মূলমন্ত্র নিয়ে সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পরা - আর সেই মূলমন্ত্র হল - "আমাদের লক্ষ্য , আগামী প্রজন্মের একটা শিশু ও যাতে শিবির কর্মী না হয় । " কাজটা অনেক বড় , কিন্তু আমরা সবাই যদি ভাগ করে নেই তাহলে কাজটা অনেক সহজ । সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে নিজ পরিবার থেকে , ছড়িয়ে দিতে হবে সারা বাংলাদেশে । তাহলে আর কোন আইন , কোন রায় কিছু লাগবে না - দেশের প্রতিটা মানুষ যদি জামাত - শিবিরের ধর্ম ব্যবসার কথা জানতে পারে , তাহলে বাংলাদেশের মানুষের মন থেকেই জামাত - শিবির নিষিদ্ধ হয়ে যাবে । তাহলে ছোট্ট এই কাজটুকু করার দায়িত্ব কি আমরা স্বেচ্ছায় কাঁধে তুলে নিতে পারি না ? কাজটা তেমন কিছু নয় , শুধু নিজেদের আশেপাশে ধর্ম ব্যবসায়ী জামাত - শিবিরের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলা । এইটুকু দায়িত্ব পালন থেকে আমরা যাতে কেউ মুখ ফিরিয়ে না থাকি । দেখুন , আমরা যদি না জাগি তাহলে কিভাবে সকাল হবে ?১৯৭১ সালে আমাদের অগ্রজেরা পেরেছিলেন , আজকে আমরাও পারব । প্রয়োজন দেশের প্রতি একটু ভালোবাসা , আর একটু সচেতনতা।মনে রাখতে হবে , "দেশটা তো আমাদের ই , আমরাই তো বাংলাদেশ !"

জয় বাংলা , জয় বঙ্গবন্ধু । জয় প্রজন্ম , জয় শাহবাগ । জয় হোক মুক্তিযুদ্ধের , জয় হোক স্বাধীনতার

শহীদ জননী জাহানারা ইমামের শেষ চিঠি

মা জাহানারা ইমাম মৃত্যুর আগে শেষ চিঠি রেখে গেছেন আমাদের জন্য । মা বলেছেন - "আমার সহযোদ্ধা বন্ধুগণ, আপনারা গত তিন বছর একাত্তরের ঘাতক ও যুদ্ধাপরাধী গোলাম আযমসহ স্বাধীনতাবিরোধী সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছেন। এ লড়াই আপনাদের, দেশবাসীর অ...ভূতপূর্ব একতা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। আন্দোলনের শুরুতে আমি আপনাদের সঙ্গে ছিলাম। আমাদের অঙ্গীকার ছিল, লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত কেউ রাজপথ ছেড়ে যাবো না। মরণব্যাধি ক্যান্সা...র আমাকে মরণ কামড় দিয়েছে। আমি আমার অঙ্গীকার রেখেছি। রাজপথ ছেড়ে যাইনি। মৃত্যুর পথে বাধা দেবার ক্ষমতা কারোর নেই। তাই আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি এবং অঙ্গীকার পালনের কথা আরেকবার মনে করিয়ে দিতে চাই। আপনারা অবশ্যই আপনাদের কথা রাখবেন।

যদি লক্ষ কোটি প্রান দোলে এক স্বপ্ন মূর্ছনায় , সে আর তখন রয় না স্বপন , সত্যি ই হয়ে যায়।


বিশাল মহাবিশ্বের ছোট্ট একটি গ্রহ পৃথিবী । সে পৃথিবীর মানচিত্রে আয়তনে ছোট হলেও আপন ঐতিহ্যে সমুজ্জল একটি দেশ বাংলাদেশ। সে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ , "আমরা বাঙালি " । আমরা ভুলিনি ১৯৭১ এ পাকিস্তানি এবং তাদের দোসর কর্তৃক আমাদের দেশে চালানো পাইকা...রি হত্যাযজ্ঞ । আমাদের একটাই দাবি - যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি । একটাই স্বপ্ন , যুদ্ধাপরাধী রাজাকার - আলবদর মুক্ত বাংলাদেশ।

একবার , অন্তত একবার রাজাকারের ফাঁসি হয়েছে এই আনন্দে বিজয় মিছিল করতে চাই । অন্তত একটি রায় কার্যকর দেখতে চাই ।


সবাই জানে শুধু গরিবের উপর চড়াও হতেই । বড় লোকদের সাত খুন মাফ । তারা অবৈধ ভাবে রানা প্লাজা বানাইলেও কোন সমস্যা নাই , সেই অবৈধ ভবনে শ্রমিক দের দিয়ে জোর করে কাজ করাইলেও কোন সমস্যা নাই - সমস্যা শুধু গরিব মানুষেরা ছবির হাটে কয়েকটা চা এর দোকান নিয়...ে বসলে ? গোলাম আজম কে তো বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে জনগনের টাকায় আদর - যত্নে রাখবে , ঈদের পর কার কার যেন ফাসির রায় দেয়ার কথা ছিল , কার কার যেন ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল , কোনটার ই কোন খবর নাই - সবাই এখন নির্বাচনী প্রচারনা নিয়ে ব্যাস্ত ।

ইতিহাস কথা বলবে - বাংলার ইতিহাস সত্যের পক্ষেই সাক্ষী দেবে

বন্ধু , আজ তোর - আমার মাঝখানে ত্রিশ লাখ শহীদের লাশ দাঁড়িয়ে
আজ তোর আর আমার মাঝে আমার ধর্ষিতা বোন দাঁড়িয়ে
আজ তোর আর আমার মাঝে ১৯৭১ এ সন্তানহারা মা দাঁড়িয়ে
আজ আমি ঋণী , আজ আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ , আমি লজ্জাভারে ভারাক্রান্ত ।
আমি ঋণী শহীদ এবং জ...ীবিত সকল মুক্তিযোদ্ধার কাছে
আমি ঋণী দুই লাখ বীরাঙ্গনা মা এর কাছে

শাহবাগে জনতার , বুক ফাটা চিৎকার , বাংলার জনতার বুক ফাটা চিৎকার - তুই রাজাকার , তুই রাজাকার , তুই রাজাকার ...।।

মুক্তিযুদ্ধের পর , ১৯৭১ এ পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের ৪২ বছর পর ২০১৩ সালে বাংলাদেশ আবার শুনল বাংলার দামাল ছেলেদের গর্জন । উদ্যত মুষ্টিবদ্ধ হাতে বাংলার জনতা শাহবাগে সমবেত হয়ে ঘোষণা দেয় তাদের আর কোন দাবি নেই , তারা শুধুই রাজাকারের ফাঁসি চায় । পাঁচ বছরের ছোট্ট শিশু থেকে শতবর্ষী বৃদ্ধ মা - বাবা , কোন বাঙালি ই নিজের প্রানের দাবিকে অস্বীকার করতে পারেনি । 'শাহবাগ' -শুধু  একটি জায়গার নাম নয় , আজ এটি একটি জাগরনের নাম , একটি ভালোবাসার নাম , একটি সদ্য ফোটা গোলাপের নাম ।

Proud to be a Bangali , Proud to declare that my motherland is Bangladesh

আমি একজন বাঙালি - আমার দেশের নাম বাংলাদেশ । এটাই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয় , আর কোন পরিচয় দরকার নেই। নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিতে গর্ব বোধ করে এমন প্রত্যেকটা মানুষ আমার ভাই - বোন । আমি কোন দলের অনুসারী নই , আমি বাংলাদেশের অনুসারী । এসব কথা বলার কারন হল - ইদানিং ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলার কারনে অনেকেই অনেক রকম কথা বলা শুরু করে দিয়েছেন । আমি স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই - আমি শাহবাগি , আমি রাজাকারের ফাঁসি চাই , আমি জামাত - শিবির নিষিদ্ধ চাই , আমি ফেলানি হত্যার সুষ্ঠ বিচার চাই , আমি রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ চাই । তবে রাজাকারের ফাঁসির দাবির উপরে এগুলোর কোনটাই নয় । সবার আগে রাজাকারের ফাঁসির দাবি , এরপর অন্য কিছু ।

একাত্তরে হয়নি সাজা , মুক্তিযুদ্ধ হয়নি শেষ । গর্জে ওঠো বীর বাঙালি , গর্জে ওঠো বাংলাদেশ ।

শাহবাগের সেই উত্তাল দিন গুলোর কথা মনে আছে ভাই ? মনে আছে ঐযে কি যেন একটা দাবিতে আমরা বাঙ্গালিরা সবাই এক হয়েছিলাম ? ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উত্তাল দিনগুলো কি ভুলে গেলেন ভাই ? ভুলে গেলেন রক্তে আগুন ধরানো সেই জয় বাংলা স্লোগান ? বাংলাদেশ একটা গনতান্ত্রিক দেশ , এখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে একজনের সাথে আরেকজনের মত বিরোধ থাকবেই , কিন্তু রাজাকারের ফাসির দাবি তো কোন নির্দিষ্ট দলের দাবি নয় , রাজাকারের ফাঁসির দাবি তো সারা বাংলার দাবি ।

যুদ্ধাপরাধী এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাড়াও বাংলাদেশ

প্রিয় দেশবাসী,
আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি আজ গভীর সংকটে, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী বাংলাদেশ পরাজিত শক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে।

যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায়কে কেন্দ্র করে একাত্তরের মতো জামাত-শিবির ও অন্যান্য ধর্মান্ধ শক্তির লক্ষ্যবস্ত্ততে পরিণত হয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি, নারীসমাজ ও মুক্তিযুদ্ধের ভাবাদর্শ। জামাত-শিবিরচক্র সারাদেশে সন্ত্রাসী নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালাচ্ছে। প্রায় একশত মন্দির-বিগ্রহ ও শহীদ মিনার ভাংচুর এবং জাতীয় পতাকা ছিন্নবিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তারা রেললাইন উপড়ে ফেলেছে, যাতায়াত ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করে ফেলেছে।

আজ সদ্য জন্ম নেয়া ছোট শিশুটির মুখে আধো আধো মা ডাকে আমি আমার বাংলার স্বাধীনতা দেখতে পাই ।

আজ ভোরের সূর্য টা আকাশ রাঙ্গিয়ে দিয়ে একটা কথাই ঘোষণা করে
আজ সবুজ মাঠের দৃশ্যপটে রাখালের স্বাধীন বাঁশরী একটা কথাই জানিয়ে দেয়
আজ কিশোরের হাতের লাল - সবুজ পতাকা একটা বিজয়েরই সাক্ষী দেয়
আজ সদ্য জন্ম নেয়া ছোট শিশুটির মুখে আধো আধো মা ডাকে -
আমি আমার বাংলার স্বাধীনতা দেখতে পাই ।