ঈদ - পূজা - প্রবারনা পূর্ণিমা , মুসলিম -হিন্দু -বৌদ্ধ নির্বিশেষে সব বাঙালি উৎসবের আনন্দে হাসবে একই সাথে । ধর্ম যার যার , বাংলাদেশ সবার । আর আদিকাল থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ আমাদের বাংলাদেশ । এদেশের মুসলমান - হিন্দু - বৌদ্ধ - খ্রিষ্টান -আস্তিক -নাস্তিক -ধনী -গরিব সবার একটাই পরিচয় , আমরা সবাই বাঙালি । আর ধর্ম যাই হোক না কেন , বিশ্বাস যাই হোক না কেন , বার মাসে তের পার্বণের দেশ বাংলাদেশে উৎসবের... আনন্দ সবার জন্য। আর তাইত আমাদের সব রকম ধর্ম পরিচয়ের উপরে আমাদের পরিচয় হল আমরা বাঙালি , আমরা মানুষ -এরপর আমরা মুসলমান না হিন্দু না বৌদ্ধ না খ্রিষ্টান সেই পরিচয় । আর এই ২০১৩ সালের শেষ কয়টা মাস যেন উৎসবের আমেজ দিয়েই শেষ হচ্ছে । একদিকে আমাদের ঈদুল আজহা , হিন্দু ভাই -বোন দের দুর্গা পূজা , বৌদ্ধ ভাই - বোন দের প্রবারনা পূর্ণিমা , আর একের পর এক ফাসির রায়ের আনন্দ তো লেগেই আছে ।
বুধবার, ৯ অক্টোবর, ২০১৩
সোমবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৩
একটি নতুন শুরু , আজ যে বড় প্রয়োজন
ফেব্রুয়ারি মাসের দিনগুলোর কথা আজকে খুব মনে পরছে । সেই ফেব্রুয়ারি থেকে আজকে অক্টোবর - আট মাস , কিন্তু এই সময়টা শুধুই আট মাস নয় -আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ আট মাস । ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু তখন । আর দুই মাস পরেই ফার্স্ট ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষা । মূলত পড়াশুনা , ক্লাস - কোচিং -সায়েন্স কংগ্রেস এইসব নিয়েই আছি তখন । এর মধ্যে একদিন সকালে পেপার খুলেই দেখলাম বাচ্চু রাজাকারের ফাসির রায় হয়েছে - বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ট্রাইব্যুনাল করে প্রথম কোন রাজাকারের ফাসির রায় দেয়া হল । খবর টা শুনে অনেক ভাল লাগছিল আসলেই । এরপর ৫ ফেব্রুয়ারি এল । কাদের কসাই এর রায় সেদিন । ছোটবেলা থেকেই মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গল্প -উপন্যাস -ইতিহাস আমি অনেক পড়তাম , কাজেই অন্তরে তখন রাজাকারদের প্রতি তীব্র ঘৃণা । জামাতের হরতাল ছিল , কাজেই সারাদিন বাসায় । বই সামনে নিয়ে বসে আছি , কিন্তু অপেক্ষা করছি কখন রায়টা দিবে । মা কে জিজ্ঞেস ও করতে পারছিলাম না রায়ের ব্যাপারে । কারন মা এর সাথে এই ব্যাপার নিয়ে তখন তেমন ফ্রি ছিলাম না । মা আমার আগ্রহ টা কিভাবে নিবে , কি মনে করবে -নানা রকম চিন্তা আসছিল মাথায় । কাজেই মা কে জিজ্ঞেস করার চিন্তা বাদ দিলাম । কিন্তু সন্ধ্যার দিকে আমার সাথে কথা বলার সময় মা ই বোমা টা ফাটাল - কসাই এর তো ফাসি হয়নাই , যাবজ্জীবন হয়েছে ।
রবিবার, ৬ অক্টোবর, ২০১৩
শাহবাগ -একটি ভালোবাসার নাম , একটি মুক্তির নাম , একটি স্বাধীনতার নাম
নিজেদের মধ্যে আমাদের সবার ই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতের মিল -অমিল , তর্ক -বিতর্ক থাকবেই । দেশ টা আমাদের সবার , আমরা সবাই এই বাংলাদেশের মানুষ।এক একজন এই বাংলাদেশ টাকে নিয়ে এক একভাবে চিন্তা করবেন , এক একভাবে ভালবাসবেন , উন্নতির জন্য বিভিন্ন রকম চিন্তা করবেন এটাই তো স্বাভাবিক । আমরা সবাই তো এই দেশের মানুষ , কোন রোবট তো না যে আমাদের সবার চিন্তাধারা একই রকম হবে । কিন্তু এক জায়গায় আমরা সবাই এক , আর তা হল আমরা সবাই যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি চাই , জামাত -শিবির নিষিদ্ধ চাই। এই জায়গায় সবাই এক কারন এটা আমাদের অস্তিত্বের প্রশ্ন , ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বদলা নেয়ার প্রশ্ন। আর আমরা যে যেভাবেই বাংলাদেশ টাকে নিয়ে চিন্তা করি না কেন , সবার প্রেরনার উৎস কিন্তু সেই একই - সংগ্রামী ইতিহাস , মুক্তিযুদ্ধ , ভাষা আন্দোলন , বঙ্গবন্ধু । এই এক ই বিন্দু থেকেই কিন্তু আমরা সবাই দেশ কে নিয়ে চিন্তা করতে বসি , এরপর বিভিন্নমুখী চিন্তা -ভাবনার উদ্ভাবন। রাজাকারের ফাঁসির দাবিতে আমাদের আন্দোলনের মূলমন্ত্র টা কি ? স্বাধীনতার বিয়াল্লিশ বছর পার হয়ে গেছে , এখন ও রাজাকার রা এই স্বাধীন বাংলাদেশে বিজয় চিহ্ন দেখিয়ে বেড়ায় , রাজাকারের গাড়িতে স্বাধীন বাংলার পতাকা ওড়ে আর বঙ্গবন্ধুর সহযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধা জেলের গাড়ি থেকে সেই দৃশ্য চেয়ে দেখেন , বীরাঙ্গনা মা , যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা স্বাধীনতার ৪২ বছর পর ও সেই খুনি -ধর্ষক দের উল্লাস দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন - এসব আমরা সহ্য করতে পারছিলাম না আর। তিল তিল করে বুকের ভেতর জমতে থাকা আগুন আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের মত বিস্ফোরিত হয়েছিল শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে । আর সেই প্রজন্ম চত্বরের যোদ্ধারা কারা ? আমি , আপনি , আমাদের মতই সাধারন মানুষ। সেখানে মা এর হাত ধরে গিয়েছিল কিশোরী মেয়ে , জীবনে কখনও যে মেয়ে সমাবেশ -মিছিল -মীটিং এ যাওয়ার কথা চিন্তাও করেনি , সেই শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে গিয়ে নির্দ্বিধায় স্লোগান দিয়েছে জয় বাংলা বলে । বাবার কোলে চড়ে শাহবাগে গিয়েছিল ছোট্ট শিশু । বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চের ভাষণ শাহবাগে ধ্বনিত হয়েছিল শিশুর তীব্র প্রতিবাদী কণ্ঠে।
শুক্রবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৩
যুদ্ধাপরাধী এবং জামাত -শিবিরের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াও বাংলাদেশ
সব রাজাকারের পরিবার আর আইনজীবীরা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে গেলেই তো হয় , উনি সুবিচার দেক রাজাকার পরিবার গুলাকে , আর এইদিকে আমরা আমাদের কাজ করি মানে ওদের ফাঁসি কার্যকর করি । তাহলেই তো ভাল হয় - রাজাকারের ফাঁসিও হয় , তারাও "স্বচ্ছ , নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক" মানের সুবিচার পায় । দেশের আইনে রাজাকারের ফাঁসির রায় হয়েছে , আইন অনুযায়ী তা কার্যকর হবে । দেরি হোক , আগে হোক ,পরে হোক কার্যকর হবেই , কারন রায় ফাসির ই হয়েছে । এখন মির্জা ফখরুলরা আর রাজাকারের পরিবার রা মিলে যদি নিজেরা নিজেদের মধ্যে রায় দিয়ে সুবিচার করায় নিতে পারে তাইলে আমাদের তো আর সমস্যা নাই ,মির্জা ফখরুলের কথা তো আর আদালতের রায়ে কোন প্রভাব ফেলবে না । তারা সুবিচার যেহেতু পেয়েছে কাজেই আপিলের ঝামেলায় না গেলেই হয় , সাকার রায়টা তাড়াতাড়ি কার্যকর হয় । তবে সাকার সুবিচার তখন ই হত যদি শহীদ পরিবারের কোন সদস্য কিংবা কোন বীরাঙ্গনা মা কে দায়িত্ব দেয়া হত তাদেরকে যে পরিমান কষ্ট সাকা দিয়েছে সে পরিমান কষ্ট দিয়ে সাকার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ।
বৃহস্পতিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৩
শাহবাগের পথে পথে , শহীদ দীপ তোমায় মনে পরে
কলেজে একজন খুব কাছের বান্ধবীর সাথে একবার শাহবাগ নিয়ে তর্ক হচ্ছিল । সেই মেয়ে এক সময় আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিল , কাজেই আমি যতটা সম্ভব মাথা ঠাণ্ডা রেখে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলাম । কিন্তু ওদের তো ভালমত ব্রেইন ওয়াশ করা থাকে , সে কিছুই বুঝল না । তর্ক করতে করতে একসময় আমি বললাম -আচ্ছা , তোরা যে দীপ ভাইয়াকে মারলি এর কি জবাব দিবি ?ইসলাম কি তোদের এই শিক্ষা দেয় ? দেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাওয়ার অপরাধে যে দীপ ভাইয়াকে মারলি , এটাকে কি এখন ইসলাম দিয়ে পরিশুদ্ধ করে নিবি ? সেই মেয়ের উদ্ভাবনী ক্ষমতা দেখে আমি তখন বিস্মিত হলাম , সে দীপ ভাইয়াকে মেরে ফেলার ব্যাপার টাও জায়েজ করার চেষ্টা করতে থাকল দীপ এটা করেছে , ওটা করেছে বলে। আর সেগুলো এমন ই অদ্ভুত মিথ্যাচার , স্বয়ং বাঁশের কেল্লাও কখনও এত মিথ্যাচার করেনাই । সেইদিন ওর প্রত্যেকটা মিথ্যার উচিত জবাব দিয়েছিলাম -দিয়ে বলেছিলাম , "তোর সাথে আমার পার্থক্য কি জানিস ? আমার হিরো হলেন দীপ ভাইয়া -যিনি দেশের জন্য আন্দোলন করার অপরাধে শহীদ হয়েছেন , আর তোর হিরো হল খুনি মিসবাহ ।"
বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৩
শাহবাগে রাত ভোর , স্মৃতিতে একাত্তর - নব ইতিহাসের সাক্ষী রইল প্রজন্ম চত্বর
একটি কিশোরী মেয়ে , নাম মুক্তি , পড়ছিল বাংলাদেশের ইতিহাস । কি অবাক করা ইতিহাস এই বাংলাদেশটার -প্রতি পদক্ষেপে লড়াই এর এমন ইতিহাস সারা পৃথিবীতে আর কোন জাতির নেই । ভাষার জন্য , দেশের জন্য , নিজেদের অধিকারের জন্য , বেঁচে থাকার জন্য , দুমুঠো অন্নের জন্য ,এমন কি প্রান খুলে নিজেদের প্রিয় বাংলাদেশের বিজয়ের স্লোগান "জয় বাংলা " বলার জন্য ও বার বার সংগ্রাম করতে হয়েছে বাঙ্গালিকে । এত রক্ত , এত যুদ্ধ , এত সংগ্র...ামের ইতিহাস এই বাঙ্গালির -এত প্রানশক্তি এই বাঙ্গালির । এই ইতিহাস পড়তে গিয়েই মেয়েটি জানতে পারে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের কথা - ত্রিশ লাখ শহীদ আর দুই লাখ মা -বোনের আত্মদানের কথা । কিশোরী মেয়েটির কি হয় -সে নিজেকে কল্পনা করতে থাকে সেই বোনের জায়গায় , হাসিমুখে ভাইকে মুক্তিযুদ্ধে পাঠিয়ে দিয়েছিল যে , আজও যেই বোন তার ভাইএর কবর টুকুও খুঁজে পায়নি । নিজেকে কল্পনা করে সেই মা এর জায়গায় , নিজের চোখের সামনে নিজের শিশু সন্তান কে পাকিস্তানিদের বেয়নেটে মারা যেতে দেখেছেন যিনি , সেই মা এর জায়গায় - শিশু কান্না করলে আশেপাশের সবাই একসাথে ধরা পরে যাবে পাকিস্তানিদের হাতে বুঝতে পেরে যেই মা শিশু সন্তানের মুখ চেপে ধরেছিলেন , পাকিস্তানিরা চলে গেল , সবার জীবন রক্ষা হল -কিন্তু শিশুটি মারা গেল । কিংবা তার সমবয়সী সেই বীরাঙ্গনার জায়গায় , বাঙালি হবার অপরাধে হানাদার রা যার উপর চরিতার্থ করেছে নিজেদের পাশবিক লালসা- মৃত্যুর আগে নিজের রক্ত দিয়ে টর্চার সেলে যে মেয়েটি লিখেছিল জয় বাংলা । এইসব আত্মদানের কথা স্মরন করতে গিয়ে নিজের অজান্তেই কখন মুক্তির চোখ থেকে অঝোর ধারায় পানি ঝরছে সে জানে না ।
মঙ্গলবার, ১ অক্টোবর, ২০১৩
শাহবাগের জয় হল , সাকা রাজাকারের ফাসি হল
আজকে রাজাকার সাকার রায় দিবে , এই খবর শোনার পর গতকাল থেকে চরম অস্থিরতার মধ্যে ছিলাম। কি হবে , কি হতে যাচ্ছে , ফাঁসি হবে ত -এরকম নানা প্রশ্ন স্বাভাবিক ভাবেই মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল । কিছুদিন আগে আঘাত , শরীর এখনও সম্পূর্ণ সুস্থ না - কাজেই শাহবাগ যাব এই আবদার মা এক কথায় উড়ায় দিল যে এখন আমারে ঘর থেকে বের হতে দেবে না । কি আর করা !!!! সারা রাত ঠিক মত ঘুম হয়নি , একবার গল্পের বই পড়ার চেষ্টা করি , একবার ব্লগ দিয়ে ইন্টারনেট চালানোর চেষ্টা করি , অবশেষে ভোরে ফজরের আজানের পর ঘুমাতে পারলাম , কিন্তু অনেক তাড়াতাড়ি ঘুম ভেঙ্গে গেল । শরীর ভাল লাগছে না , চোখের একটু উপরে অপারেশনের সেলাই ,ঠিকমতো চোখ খোলাও যাচ্ছে না, ল্যাপটপের দিকে তাকানো আরও ঝামেলা - কিন্তু সাকার রায় বলে কথা!!! সকাল নয়টা থেকে ফেসবুকে বসে আছে এই রায়ের খবর শোনার জন্য । মা বারবার এসে বলছেন এই বস্তুটা মানে ল্যাপটপ টা রাখতে , কিন্তু রায় না শুনে আমি রাখি কিভাবে ?
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)