সোমবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৪

স্বপ্নশিখা...

নীল আকাশের নিচে খোলা রাস্তায় একা একা হাঁটার মাঝে আনন্দটা কেমন ! জানি না, জানার সুযোগ হয়নি কখনও। যেমনিভাবে কখনও সুযোগ হয়নি রাতের বেলা তারাঢাকা চাদরের নিচে ছাদে বসে তারা গোনা। কিংবা উন্মুক্ত জ্যোৎস্নালোকে স্নান করা। কোনটা করারই সুযোগ হয়নি কখনও। মেয়েদের এতটা বেশি স্বাধীনতা পেতে নেই হয়ত। একটা ছেলে...র মন খারাপ হলে সে খোলা রাস্তা দিয়ে ঘুরতে পারে, নদীর পাড়ে গিয়ে বসে থাকতে পারে, বন্ধুর সাহচর্যে দুঃখ ভুলতে পারে। কিন্তু একটা মেয়ে! ইচ্ছা করলেই পারেনা ঘর থেকে ছুটে বের হয়ে নদীর পাড়ে বসে থাকতে। যত মন খারাপই হোক, ঘরের ঐ নিভৃত কোণটাই কিন্তু তার ঠিকানা। সমাজের একটা অলিখিত শেকল ছোটবেলা থেকেই যেন পরানো থাকে পায়ে।

মানুষ মনে হয় আত্মদ্বন্দ থেকে মুক্তি চায়। নিজের অপারগতাকে, ব্যর্থতাকে নিজের যুক্তি দিয়েই ঢেকে দিয়ে আত্মতৃপ্তি পেতে চায়। নিজের মনকে সম্পূর্ণভাবে বাইরে প্রকাশ করতে পারে এমন বীর দুনিয়ায় কয়জন আছে! নারীত্বের ঐ আবরণটা খসে পরে মানুষ চেহারাটা সামনে আনলে খুব সহজেই চোখে পরে আঘাতের চিহ্নগুলো। রাস্তার এক ধারে বসে ভাইয়ের সাথে খেলা করতে থাকা মেয়েটির চোখে মুখে কি যেন এক অপার্থিব আনন্দ খেলা করে! অথবা কর্পোরেট শহরের ইট পাথরের দেয়ালের মাঝে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে শিলাবৃষ্টি দেখতে থাকা মেয়েটির চোখেও তো কত রকম স্বপ্ন খেলা করে। মানুষ আত্মনাশি নীল পতঙ্গ। একদিন পাঁজরের হাড় দিয়ে গড়েছিল এ পৃথিবী, একদিন মানুষই ধবংস করবে তাকে। তারপরেও তো মানুষ স্বপ্ন দেখে...

চারপাশের জীবনগুলোকে, প্রকৃতিকে দুচোখ ভরে দেখার চেষ্টা করি। মাঝে মাঝে কল্পনার জগতে হারিয়ে যেতে খুব ভাল লাগে। কবি তব মনোভূমি রামের জন্মস্থান, অযোধ্যার চেয়েও সত্য জেন। তবে, কখনও বাস্তবটাকেও সাজিয়ে নেয়া যায় কল্পনার মত করেই। আসলে আমাদের পৃথিবীটা, আমাদের বাংলাদেশটা অনেক সুন্দর। শুধুমাত্র এই স্বর্গীয় রুপ উপলব্ধি করার ক্ষমতা থাকতে হয়। প্রতিদিনের চাওয়া পাওয়ার হিসাবকে দূরে সরিয়ে রেখে তাই জানালার ধারে চুপচাপ বসে শিলাবৃষ্টি দেখি। আমাদের শহরটাতে প্রকৃতির ছোঁয়া বলতে গেলে একেবারেই হারিয়ে গেছে, তার মাঝে যদি এতটুকু প্রকৃতির স্পর্শ পাওয়া যায় তো মন্দ নয়! প্রতিটা মুহূর্তকে নিজের সমস্ত সত্ত্বা দিয়ে অনুভব করতে চেষ্টা করি আজ। আর তখনই অনুভব করি নিজেকে যতটা দুর্বল ভাবি ততটা আমি নই। সাময়িক আঘাতকে উড়িয়ে দিতে চাই এই কালবৈশাখী ঝড়ের মতই।

বাংলাদেশ, তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তোমার গ্রাম্য প্রকৃতির কাছে যাওয়া হয়নি আমার। কখনও সৌভাগ্য হয়নি তোমার নদীর বুকে সাঁতার কাটার। তোমার সেই রুপ আমি কল্পনা চোখে একে রেখেছি। কখনও খুব মন খারাপ হলে সেই ছবিগুলোকে উল্টে পাল্টে দেখি। তোমার লাল সবুজ পতাকাটা প্রতি মুহূর্তে আমাকে শক্তি যোগায়। যখন কেউ আমার পাশে থাকেনা, আমি ঐ সবুজের বুকে লালের মাঝে শক্তি খুঁজে পাই, সাহস খুঁজে পাই। মাতৃ হৃদয়ে পক্ষপাতিতা নেই। সেজন্যেই তো বাংলা মা তুমি চিরকাল স্নেহের মায়ায় পরম ভালবাসায় ধরে রেখেছ তোমার সন্তানদের। সেই সাত কোটি থেকে আজ আমরা ষোল কোটি। তোমার মাটির প্রতিটি কণার শপথ, এই বাংলাদেশকে কেউ কখনও আর হারাতে পারবে না। ধবংস স্তুপের মধ্যে থেকেও আমরা নতুন করে স্বপ্ন বুনতে জানে। নতুন করে সাজাতে জানি। নতুন করে আবার সবকিছু শুরু করতে জানি। কারণ, আমাদের দেশটা যে "বাংলাদেশ"।

জয় বাংলা...

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন