শুক্রবার, ২৮ মার্চ, ২০১৪

আমার সোনার বাংলা,আ মি তোমায় ভালোবাসি।

শ্রাবন্তী মেঘের কারুকার্য ছেয়ে ফেলেছিল তোমার আকাশটিকে।আকাশজুড়ে জমা হয়েছিল ঘন কাল মেঘমালা। একসময় তারা ঝরে পরেছিল অঝোরে বৃষ্টি হয়ে।সেই বৃষ্টি, বিধাতার আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল কাঠফাটা রৌদ্রের পরে। এক নবযৌবন লাভ করেছিল তোমার প্রকৃতি।এ বৃষ্টিকে দেখে নতুন ফসলের আশায় বুক বেঁধেছিল কৃষাণ। কবি রচনা করেছিল নতুন কোনও কবিতা। কোথাও হয়ত একটি একাকী কিশোরী বালিকা লুকিয়ে লুকিয়ে ছাদে উঠে গিয়েছিল বৃষ্টিতে ভিজতে।অবাক হয়ে ...বিস্ময় ভরে তোমার সে রুপ দেখেছিলাম জানালার গরাদ ভেদ করে। আর নিজের মনেই বলেছিলাম, ভালবাসি।

অপরুপ রোদ্দুরে স্নান করা প্রকৃতি নিয়ে উজ্জ্বল হাসিতে উদ্ভাসিত ছিলে তুমি। কাকের চোখের মত কালোচুল এলিয়ে রাঙা উৎপলকে তোমার উপমা হিসেবে ব্যাবহার করে গেছেন কবি।কৃষ্ণচূড়ার লালে পুরো শরীর আবীর রাঙ্গা করে পৃথিবীর মানচিত্রে তুমি গৌরবের হাসি হাসছ। বসন্তের ছোঁয়া লেগেছিল তোমার প্রকৃতিতে। শীতের বৈরাগ্যের পর পরই বসন্তের পুস্পশোভিত ডালি নিয়ে সারা বিশ্বকে তুমি যেন জানিয়ে দিচ্ছ তোমার গৌরবময় উপাখ্যান। স্নেহময়ী তোমার সেই মাতৃরুপ আমি দেখেছি একান্ত অনুভবে। আর অন্তর থেকে উচ্চারন করেছি, ভালবাসি।

মুক্তির মন্দির সোপানতলে...

মুক্তির মন্দির সোপানতলে বীরদের নাম যেন অশ্রুজলেই লেখা থাকতে হয়। তাইত ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের মাঝেই মিশে আছে কত শত মায়ের বুক ফাটা কান্না আর বোনের অশ্রু সজল আর্তনাদ। অনেক জীবনের দামে পাওয়া এ দেশ, অনেক মূল্য দিয়ে পাওয়া। সত্যি, এ ব্যাপার গুলো ভাবতে বসলে নিজেই কখন কাঁদতে শুরু করি ভেবে পাইনা।

"মা, দেশের এই অবস্থায় তুমি যদি আমাকে জোর করে আমেরিকায় পাঠাও তাহলে আমি হয়ত যাব শেষ পর্যন্ত। কিন্তু আমার বিবেক ...চিরকালের মত অপরাধী করে রাখবে আমাকে। আমেরিকা থেকে বড় ডিগ্রি নিয়ে এসে হয়ত বড় ইঞ্জিনিয়ার হব, কিন্তু নিজের বিবেকের কাছে কখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব না।তুমি কি তাই চাও, আম্মা?"

নাহ, আম্মা তা চাননি। আম্মা তা চাইতে পারেননা। আর তাই দেশের জন্য কুরবানি করে দিয়েছিলেন শহীদ রুমীকে। সেই উজ্জ্বল প্রতিভাবান সাহসী বীর মুক্তিসেনা শহীদ রুমীর জন্মদিন কাল। শহীদ রুমী আমাদের আদর্শ হয়ে বেঁচে থাকবেন চিরকাল।

শুভ জন্মদিন, শহীদ রুমী। আকাশের প্রথম শুকতারা হয়ে আশীর্বাদ করো আমাদের। শহীদ রুমী হয়ত জানেন তাঁর খুনি মুজাহিদ রাজাকারের ফাঁসির রায়ের কথা। কাদের কসাইয়ের ফাঁসির কথা। রুমীরা যে বারবার ফিরে আসেন বাংলায়। ইতিহাস হয়ে, ইতিহাসের নির্মাতা হয়ে, ইতিহাসের যোদ্ধা হয়ে...

জয় বাংলা...

সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি...

রজনীর নিকষ কালো আঁধার ভেদ করেও তো এক সময় আলোকমালার একটি সূক্ষ্ম কিরণ দেখা দেয় পূর্ব দিগন্তে। সেই রেখাটি ধীরে ধীরে বিস্তৃত হতে থাকে, আকার নেয় উজ্জ্বল এক আলোকের গোলকের যার নাম সূর্য। রক্তলাল আভা এক সময় ছড়িয়ে পরতে থাকে পুরোটা আকাশ জুড়ে। প্রকৃতিতে লাগে আলোর দোলা। হয়ত বা নতুন সূর্যের সাথে নতুন কোন এক স্বপ্নে বুক বাধে আশাহত ভাগ্যপরাহত কোনো এক মানুষ।হয়তবা ফসলের মাঠের পথ ধরতে লাঙল জোয়াল কাঁধে গ্রামীণ কৃষক...ের মনেও তখন নতুন জীবনের স্বপ্ন জাগে।

বৃহস্পতিবার, ২৭ মার্চ, ২০১৪

স্মৃতির পাতা ও কিছু স্বপ্ন।

একটা সময় ছিল...

অনেক ছোট ছিলাম তখন। মায়ের হাত ধরে স্কুলে যেতাম। ক্লাসে বসে মাকে না দেখতে পেয়ে কান্নাকাটি করতাম। জেদ করতাম মাকে ক্লাসের ভেতরে বসিয়ে রাখার জন্য। একটা নাম্বারের জন্য প্রথম না হতে পারলে আর কিছু ভাল লাগত না।ছবি আঁকতাম, সেখানেও প্রতিযোগিতা। সবচেয়ে বড় কথা, সে সময় প্রতিযোগিতাকে উপভোগ করতাম। অনেক ছোট ছিলাম, কিন্তু অনেক বড় বড় পাগলামি করতাম। স্কুলে একদিন না গেলে অসহ্য লাগত তখন।স্কুলের মাঠ, ...অযথা দৌড়াদৌড়ি, ক্লাস সবই অনেক ভাল লাগত তখন।

সেই ছোটবেলার বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে একদিন চলে আসলাম ভিকারুন্নিসায়। বড় স্কুল, ভাল স্কুল, টিচাররাও অন্যরকম। কেমন যেন অন্য সবার থেকে দূরে সরে যেতে থাকলাম ধীরে ধীরে। ছোট ছোট ব্যাপারকে তখন উপেক্ষা করতাম। সবকিছুকে অতিক্রম করে নিজের লক্ষ্যে অটল থাকার স্বভাব ছিল তখন থেকেই। একসময় স্কুল লাইফের শেষে দাঁড়িয়ে দেখলাম, ফেয়ারওয়েল এর দিনটা তে আমার পাশে একটু দাঁড়ানোর মত কেউ নেই।

বুধবার, ২৬ মার্চ, ২০১৪

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে প্রজন্ম চত্বর।

প্রজন্ম চত্বর, শাহবাগ। অদ্ভুত এক ভালবাসায় বেঁধে রেখেছে আমাকে। শাহবাগে গেলে আমি নিজেকে খুঁজে পাই। আমি আমার আমিকে খুঁজে পাই। এখানে আমি বুঝতে পারি আমার সাধ্য কত টুকু এবং কি করতে পারি। শাহবাগ, আমাকে স্বপ্ন দেখতে শেখায়।সে স্বপ্নের বাস্তবায়নের জন্য লড়ে যেতে শেখায়। স্বাধীনতা দিবসে শাহবাগে যাব না, তাও কি হয়!!! তাই রওনা হয়ে গেলাম শাহবাগের পথে। এই পথ, এই জাদুঘর, পাবলিক লাইব্রেরি সব যেন আমার কত জনমের আপন। কত... যুগ যুগান্তরের আত্মার সম্পর্ক যেন রচিত হয়ে আছে এই প্রজন্ম চত্বরের সাথে। যত বার শাহবাগের মাটিতে পা রাখি, এই কথাগুলোই ঘুরে ফিরে মনে আসতে থাকে যে আমরা পেরেছি, আমরা পারব।

মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসের শাহবাগ ছিল লাল - সবুজে রাঙ্গা এক অক্ষয় উপমা। যখন গিয়ে পৌছালাম, অনুষ্ঠান তখনও শুরু হয়নি। মাইকে বাজছে দেশের গান। ফুল ভলিউমে "তীরহারা এ ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে' বাজছিল তখন। চারপাশে ঘোরাফেরা করলাম কিছুক্ষণ। Imran ভাইয়ার সাথে কথা হওয়াটা আজকের সবচেয়ে স্মরণীয় দিক আমার। ভাইয়া নিজেও হয়ত জানেন না ঐ দুই মিনিটের কথা বলাটাই আমার কাছে কতটা আপন করে রাখার স্মৃতি। কতোটা আনন্দের স্মৃতি। Fida ভাইয়া, Jebtik ভাইয়াদের সাথেও আজকেই প্রথম কথা হল। আর এইসব আলাপ পরিচয়ের সময় মঞ্চে চলছিল রাজপথ সংলাপ। বিষয়ঃ যুদ্ধাপরাধের বিচার ও গণজাগরণ মঞ্চের ছয় দফাঃ আমরা এখন কোথায়?

সোমবার, ২৪ মার্চ, ২০১৪

একটি পতাকা মিছিল ও ভালবাসার জয় বাংলা...

একটি পতাকা মিছিল ও ভালোবাসার "জয় বাংলা"...

স্বাধীনতা দিবস আজ। ২৬ মার্চ। সালটা ২০১৪। বেণীতে বেলি ফুলের মালাটা জড়াতে গিয়ে নিজের অজান্তেই হাসছিল দোলা।মহান স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এই দিনগুলো এগিয়ে এলে হটাত করেই কেমন যেন মন ভাল হয়ে যায় তার। ঘন সবুজ জমিন আর লাল পাড়ের শাড়িটা অনেক যত্ন করে পরেছে দোলা আজকে।কপালে বেঁধেছে স্বাধীন বাংলার পতাকা।কি ভাববে পাগলটা এই সাজ দেখলে! সাগর কি বুঝবে এই সাজের মর্মার্থ!নাকি বরাবরের মত আজকেও গল্প করতে করতে কোন অজানায় হারিয়ে যাবে! এসব ভাবতে ভাবতেই চোখে কাজল লাগায় দোলা। চুড়ির সংগ্রহ থেকে লাল- সবুজ চুড়ির গোছাটা বের করে। আজকে সব কিছুই যেন বেশি সুন্দর লাগছে। তৈরি হয়ে ঘর থেকে বাইরে পা বাড়ায় দোলা।

সাগরের বাসা গুলশানে। দোলাকে অনেক ভালোবাসে সে। মাঝে মাঝে তার মনে হয়, মেয়েটা যেন একটু বেশি পাগল। গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে কি এক শাহবাগ নিয়ে পরে আছে, আজ পর্যন্ত বিরাম নেই। ফেসবুকে আগে ওর প্রতিটা স্ট্যাটাসে কত আনন্দ করত দুইজনে মিলে। আর এখন ? দোলার স্ট্যাটাসের মর্মার্থ সাগরের মাথার দুই মাইল উপর দিয়ে যায়। এই শান্ত শিষ্ট মেয়েটার মধ্যে এত তেজ কোথা থেকে আসল সাগর তা ভেবে পায়না। হয়ত শাহবাগ থেকেই। দোলা তো তাই বলে। নিজে সে "আই হেইট পলিটিক্স" ধরণের ছেলে। কিন্তু দোলার কাজে কখনও বাঁধা হয়ে দাড়ায়নি। পাগলিটা আজকে জানি আবার কি আবদার করে বসে! মনে মনে এই ভাবতে ভাবতে বাড়ি থেকে বের হয় সাগর।

শনিবার, ২২ মার্চ, ২০১৪

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি

জাতীয় সঙ্গীত আমাদের বাংলাদেশের প্রতি ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ। এটা এমন একটা আবেগ যা কোন শব্দ দিয়ে কক্ষনো বোঝানো সম্ভব না। গত বছরের মহান বিজয় দিবসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কিংবা গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে লাখ লাখ কণ্ঠে একই সাথে আমার সোনার বাংলা গাওয়ার যে অনুভূতি, তা যে অনুভব না করেছে তাকে বোঝানো সম্ভব নয়। জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে বিশ্বরেকর্ড হোক বা না হোক, আমি শুধু জানি যে বিজয় ২০১৩ অনুষ্ঠানে ...এ জাতীয় সঙ্গীত গাইতে গিয়ে আমার চোখে পানি এসেছিল, ইচ্ছা করছিল পতাকাটা আঁকড়ে ধরে অঝোরে কাঁদি। বড় মধুর সেসব স্মৃতি আমার, বড় ভালোবাসার এই বাংলাদেশ, এ ইতিহাস, প্রজন্ম চত্বর আর অমর এই জাতীয় সঙ্গীত।

বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরবার সময় বিমানে পরম ভালবাসা নিয়ে গাইছিলেন এ গানটি। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হবে "আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।" একাত্তরে এই জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার "অপরাধে" কত বাঙ্গালিকে যে গুলিতে, বেয়নেটে ঝাঁঝরা করেছে তার কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। কারণ, লক্ষ লক্ষ মিসাইলের চেয়েও এ জাতীয় সঙ্গীত অনেক বেশি শক্তিশালী। জাতীয় সঙ্গীত, বাংলাদেশকে ভালোবাসার উচ্চকিত ঘোষণা। অনেক জীবনের দামে পাওয়া এ অমূল্য সম্পদ। প্রতিটা লাইনে মিশে আছে শহীদের রক্তের ঘ্রাণ, বীরাঙ্গনা মায়ের অশ্রু। ভালোবাসি, অনেক বেশি ভালবাসি এ জাতীয় সঙ্গীতকে। আর তাই সহ্য করতে পারিনা জাতীয় সঙ্গীতের কোনরকম অপমান।