সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৩

সবুজের বুকে লাল , সে তো উড়বেই চিরকাল...।

  • ৫ ফেব্রুয়ারি রাত। রাজধানীর রাজারবাগে বাগানবিলাসে ঢাকা দোতলা বাড়িটার উপরের তলায় আলো জ্বলছে। খাবার টেবিলে আলোচনা চলছে রাজাকার কাদের কসাইয়ের রায় নিয়ে। মৃন্ময়ী , কিশোর আর মৃন্ময়ীর মা চন্দ্রকথা কে নিয়ে তাদের ছোট্ট সংসার। মৃন্ময়ীর মা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে হারিয়েছেন তাঁর একমাত্র ছেলে সাগরকে। স্বামী একাত্তরের পর বেঁচে ছিলেন আরও এগারো বছর , কিন্তু কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পের অত্যাচারের স্মৃতি কখনও মুছে ফেলতে পারেন নি। মৃন্ময়ীর জন্ম একাত্তরের অনেক পরে - ১৯৮২ সালে। তার জন্মের কিছুদিন পরই মারা যান বাবা। মেয়ে মৃন্ময়ীকে আকড়ে ধরে বেঁচে থাকেন মা চন্দ্রকথা। এই মেয়েটাই যে পৃথিবীতে তাঁর একমাত্র অবলম্বন। মৃন্ময়ীকে বাঁচানোর জন্য গার্মেন্টস এ চাকরি নেন মা , অকথ্য পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে বড় করে তোলেন মেয়েকে। মেয়ের দিকে তাকালে তিনি শুধু নিজের মেয়েকেই দেখতে পান না - দেখতে পান একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে। দেশ মায়ের জন্য পরিবারের মায়া ত্যাগ করে যে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরেছিল , নির্ভুল নিশানায় আঘাত হেনে যে পরাজিত করত পাকিস্তানি হায়েনাদের - সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার ছায়া দেখতে পান চন্দ্রকথা মৃন্ময়ীর মাঝে। মৃন্ময়ীকে ছোটবেলা থেকেই শিখিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের কথা - মা ডাক শেখানোর আগে শিখিয়েছেন জয় বাংলা বলতে। মৃন্ময়ী যখন বাসায় সাজিয়ে রাখা ফ্যামিলি ফটো থেকে বাবার কিংবা ভাইয়ের ছবি বের করে জানতে চেয়েছে এরা কে , অশ্রুজলে ঝাপসা চোখে মেয়েকে মা জানিয়েছেন এদের পরিচয়। ছোট্ট শিশু মৃন্ময়ীর বুকে বাসা বেঁধেছে এক নিদারুন প্রতিশোধস্পৃহা। রাজাকারদের প্রতি এক তীব্র ঘৃণা।

শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৩

বাংলার পলিমাটির বুকে পায়ের ছাপ পরে গেছে প্রজন্ম চত্বরের। এ ইতিহাস মোছে কার সাধ্য ?

মহাকালের কাঁটা ঘুরে চলে তার নিজস্ব গতিতে , দিনের পর দিন -মাসের পর মাস -বছরের পর বছর - শতাব্দীর পর শতাব্দী হয়ে। এই গতিশীল জীবন প্রবাহের মাঝেই লেখা হয় অনেক ইতিহাস , সময়ের ডায়রিতে কিছু বিশেষ দিন অক্ষয় হয়ে থাকে চিরকাল। একটি জাতির পথচলায় নানারকম ঘটনার মাঝে অক্ষয় হয়ে থাকার মত কিছু ইতিহাস থাকে , যা ঠাই পায় কালের সংরক্ষণাগারে। হয়ত বা অনেক বছর, অনেক শতাব্দী পরে এই ঘুমিয়ে থাকা ইতিহাস কথা বলে উঠবে আবার , জাত...িকে জানিয়ে দেবে তার নিজস্ব আত্মপরিচয়ের কথা। বায়ান্ন যেভাবে জাগ্রত হয়েছিল উনসত্তরে , উনসত্তর যেভাবে জাগ্রত হয়েছিল একাত্তরে এসে, একাত্তরের ইতিহাস যেভাবে জাগ্রত হয়েছিল ২০১৩ তে এসে ... 

ফেব্রুয়ারি মাস আরও অনেক আসবে , কিন্তু ২০১৩ এর ফেব্রুয়ারি আর কখনও আসবে না। সেই উত্তাল মিছিল , রাত -দিন শাহবাগে অবস্থান, লক্ষ কণ্ঠে এক ই দাবি -"রাজাকারের ফাসি চাই" , এই আগুনঝরা দিনগুলোকে হয়ত প্রত্যেক ফেব্রুয়ারিতেই আমরা স্মরণ করব - কিন্তু দিনগুলোকে আর ফিরে পাব না। ডিসেম্বর বার বার আসবে , কিন্তু ২০১৩ সালের ১২ ই ডিসেম্বর বারবার আসবে না। প্রথম কোন রাজাকারের ফাসি হয়েছে , এবং সেই ফাসি আদায় করতে দশ মাস ধরে আন্দোলন করতে হয়েছে প্রজন্ম চত্বরে - এই গৌরব বারবার আসবে না। দুই শুন্য এক তিন - সালটা আসলেই একটা ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধের পর সর্বশ্রেষ্ঠ বিজয়ের ইতিহাস... 

শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৩

আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ , চুনি উঠলো রাঙ্গা হয়ে

  1. জীবনের প্রতি পাতায় পাতায় ছড়িয়ে থাকে যুদ্ধের ইতিহাস , সাদা - কালো পাতা রং তুলির ছোঁয়ায় হয়ে ওঠে জীবন্ত। কখনও সে রং বিপ্লবের ,আবার কখনও বা বন্ধুত্বের, কখনও প্রেমের , কখনও বা রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের। প্রতিটা ইট -কাঠ কিংবা পাথরের মাঝে লুকিয়ে থাকে এক একটি জীবন যুদ্ধের ইতিহাস, নরম সবুজ পলিমাটির বুকে চিরন্তন পথচলায় মাটির বুকে পায়ের ছাপ থেকে যায় অন্ধকারে খাঁ খাঁ সীমান্তে বুকে হেঁটে শত্রুর আস্তানার দিকে ছুটে... যাওয়া মুক্তিসেনার। বন্ধুর হাতে তারার মত জ্বলজ্বলে এক রাঙা পোস্টার যে শহীদ বন্ধুর রক্তের দামেই লেখা। কিংবা কোন এক নিভৃত পল্লীতে ছোট্ট কুঁড়েতে বসে স্বামী- হারা , সন্তানহারা মা গোনেন অপেক্ষার প্রহর। মায়ের একজন সন্তানের মৃতদেহের উপরে তত দিনে জমা হয়ে গেছে আরও শত শত সন্তানের মৃতদেহ। স্বাধীন বাংলাদেশ হয়েছে , খুনির ফাঁসি হয়েছে - পার হয়ে গেছে অনেকটা সময়।

    বিয়াল্লিশ দিন , বিয়াল্লিশ মাস , বিয়াল্লিশ বছর চলে যায় , মায়ের অপেক্ষার প্রহর যে আর শেষ হয়না। "আবার আসিব ফিরে এই বাংলায়" বলে যে সন্তান মুক্তির সংগ্রামের সন্ধানে ঘর ছেড়েছিল - নির্ভুল লক্ষ্যে আঘাত হেনে মুক্ত করেছিল বাংলার মাটিকে, নিস্তব্ধ রাতের নীরবতা ভেদ করে শত্রুর বুলেট ঝাঁঝরা করে দিয়ে গেছে তার বুক। মা , মা করে ষোল বছর বয়সের সেই কিশোর টি আর ছুটে আসবে না দুঃখিনী মায়ের কোলে , যেমনভাবে আর কখনও মায়ের কোলে ফিরে আসবে না ক্র্যাক প্লাটুনের শহীদ দুর্ধর্ষ গেরিলারা। "আবার আসিব ফিরে এই বাংলায়" -হ্যা বাংলায় বারবার ফিরে আসেন বটে শহীদ রুমী - বদি -আজাদ - আলতাফ মাহমুদ , কখনও পুলিশের উদ্যত অস্ত্রের মুখে জয় বাংলা স্লোগানে রাজপথ কাঁপানো তরুণী হয়ে , কখনও রাতের অন্ধকার ভেদ করে রাজাকারের আস্তানায় হানা দিয়ে "রাজাকার" তিলক পরিয়ে আসা অকুতোভয় তরুণ হয়ে। 

বুধবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৩

Merry Christmas and Happy New Year to all...

  1. আবহমানকাল ধরে বাংলাদেশ নরম পলিমাটিতে হাজারো মানুষের দৃপ্ত পদচারণা। ধর্ম - বর্ণ -জাতি বিভেদ সবকিছুর ঊর্ধ্বে আমাদের বাঙালি পরিচয়। এদেশে চিরকাল হিন্দু - বৌদ্ধ -খ্রিষ্টান - মুসলমান সব ধর্মের মানুষ একসাথে কেঁদেছে , হেসেছে , মেতেছে উৎসবের আনন্দে। আমি জানি ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠী চায়না বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি থাকুক - সেজন্য তারা ধর্মকে পুঁজি করে প্রতি মুহূর্তে ছড়াতে চায় সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ। কিন্ত...ু তারা কখনই সফল হতে পারবে না কারণ , এই দেশটার নাম বাংলাদেশ। হিন্দু - বৌদ্ধ - মুসলিম - খ্রিষ্টান সবাই এই বাংলা মায়ের সন্তান। বাঙালি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে , বাঙালি দল -মত - পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে শাহবাগ আন্দোলন করে রাজাকারের ফাসি নিশ্চিত করেছে। বাংলার হিন্দু , বাংলার বৌদ্ধ , বাংলার খ্রিষ্টান - আমরা সবাই বাঙালি।

    আজ লড়াই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সাথে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তির। প্রজন্ম চত্বর বাঙ্গালিকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে কে আমাদের বন্ধু আর কে আমাদের শত্রু। তাই লড়াই সে শত্রুদের বিরুদ্ধে। আজকে যুদ্ধটা সরাসরি পাকিস্তানের সাথে। খুনি পাকিস্তানিদের তো মাতৃভূমি থেকে একাত্তরেই বিতাড়িত করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। আজ ২০১৩ তে এসে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বর নিশ্চিত করেছে রাজাকারের ফাসি। ফাসি হয়ে গেছে কিছুদিন আগে বারই ডিসেম্বরে, আনন্দ রয়ে গেছে এখনও। আজ আমরা গর্বভরে বলতে পারি একাত্তরের হায়েনাদের আমরা ক্ষমা করিনি , কখনও করব না। রাজাকারের ফাসি হয়েছে , দাবি জানানো হয়েছে পাকিস্তানের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করার । দেশব্যাপী ক্যাম্পেইন চলছে পাকিস্তানি পন্য বর্জনের জন্য। এ প্রজন্ম যে হারতে জানে না , মাতৃভূমির প্রশ্নে কোনরকম আপোষ করতে জানে না।

মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৩

প্রজন্মকে পিছনে ঠেলে দিতে চায় কে বা কারা ?

প্রজন্ম চত্বর একটি মহাবিস্ফোরণের নাম যে বিস্ফোরণ ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির সবরকম অহংকারকে। প্রজন্ম চত্বর শুধু একটি জায়গার নাম নয় , এটি একটি চেতনার মহাসমুদ্রের নাম যা ঘর থেকে বাইরে বের করে এনে প্রাণের দাবি জানাতে উৎসাহী করেছে বিয়াল্লিশ বছর ধরে অভ্যস্ত নীরবতায় আচ্ছন্ন থাকা জাতিকে। প্রজন্ম চত্বর সারা বিশ্বকে জানিয়ে দেয়ার নাম যে বাঙালি এ...খনও জেগে আছে , চিরকাল জেগে থাকবে। প্রজন্ম চত্বর লাল - সবুজে আচ্ছন্ন ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের অক্ষয় চেতনার নাম , প্রজন্ম চত্বর মা জাহানারা ইমামের স্বপ্ন পূরণের নাম , প্রজন্ম চত্বর লাল -সবুজ শাড়ি পরা তরুণীর কণ্ঠে দুর্জয় স্লোগানের নাম , প্রজন্ম চত্বর দেশদ্রোহী অপশক্তির বিরুদ্ধে জেগে থাকার নাম , প্রজন্ম চত্বর খুনি রাজাকারের গলায় ফাঁসির দড়ির নাম।

প্রজন্ম চত্বরে বাঙ্গালির নবজাগরণের কারণেই আদায় হয়েছে রাজাকার কাদের কসাইয়ের ফাঁসি। পাঁচ লক্ষ মানুষ একসাথে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ - প্রজন্ম চত্বরের জন্যই। প্রজন্ম চত্বর ঘুম ভাঙ্গা জাতির কণ্ঠে তুলে দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের অমর স্লোগান - জয় বাংলা। রাজাকাররা আর তাদের দোসর জামাত - শিবির প্রজন্ম চত্বরের বিরোধিতা করবে এটাই স্বাভাবিক , তাদের নির্মম আক্রমনে শহীদ হয়েছেন রাজীব - দীপ - জগতজ্যোতি - জাফর মুন্সিরা , স্লোগান দিতে দিতে মৃত্যুবরণ করেছেন শান্ত ,প্রজন্ম চত্বরের কতজন যোদ্ধা যে আহত হয়েছেন আন্দোলনের পথযাত্রায় তার নির্দিষ্ট সংখ্যা করাও সম্ভব না। সবশেষে কিছুদিন আগেই পুলিশ নির্লজ্জ আক্রমন চালিয়েছে এই যোদ্ধাদের উপর। কিন্তু এ প্রজন্ম যে জীবন বাজি রেখেই লড়াই এ নেমেছে , জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার হলেও বাঙালি যে মাথা নোয়াবার নয়।

রবিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৩

প্রজন্মের আহ্বান , নিপাত যাক পাকিস্তান

ফেব্রুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে এসেছে গণজাগরণ মঞ্চ। আন্দোলনের পথযাত্রায় শহীদ হয়েছেন যোদ্ধারা, সহযোদ্ধার মৃত্যুশোককে শক্তিতে পরিণত করে পরমুহূর্তেই রাজপথ কাঁপিয়েছেন আবার প্রজন্মযোদ্ধারা। স্বাধীনতাবিরোধীদের বার বার আক্রমণ , স্বার্থান্বেষীদের অযৌক্তিক বিরোধিতা - কোন কিছুই শাহবাগের এই মুক্তির পথযাত্রাকে থামাতে পারেনি। আজ আমরা গর্বভরে বলতে পারি আমরা মা জাহানারা ইমামের স্বপ্ন সফল করতে পেরেছি , স্বাধীন বাংলাদেশে খুনি রাজাকারের ফাসি কার্যকর হয়েছে । স্বপ্নের সিঁড়ি নির্মাণের যে প্রত্যয় নিয়ে প্রজন্ম চত্বরের যাত্রা শুরু হয়েছিল সে সিঁড়ি নির্মাণের শেষ ধাপটি সম্পন্ন  হয়েছে রাজাকারের ফাসির মধ্যে দিয়ে - সময় এই সিঁড়িটিকে স্থায়ী করে ধরে রাখার , সময় সেই সিঁড়ি বেয়ে নতুন আগামীর পথযাত্রার।

সেই নতুন পথযাত্রার পথেই বাধা হয়ে দাঁড়াতে চেয়েছিল একাত্তরের পরাজিত হায়েনার দল পাকিস্তান। কিন্তু সে প্রচেষ্টা সফল হতে দেয়নি বাংলার প্রজন্ম। পুলিশের নির্লজ্জ আক্রমন সত্ত্বেও তাঁরা প্রতিবাদ করেছেন, জয় বাংলা স্লোগানে কাঁপিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানিদের ভিত। এই প্রজন্মযোদ্ধাদেরকে হারাতে পারে এমন আগ্নেয়াস্ত্র এখনো আবিষ্কার হয়নি। শত শত আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে দাঁড়িয়েও স্লোগানকন্যা শাম্মি আপু জয় বাংলা স্লোগানে সেদিন কাঁপিয়ে তুলেছেন গুলশান চত্বরকে। এক একজন সহযোদ্ধার উপরে পুলিশ কিরকম নির্মমভাবে আক্রমন করেছে , তারপরেও প্রজন্ম চত্বর জেগে আছে , জেগে থাকবে। শাহবাগ জেগে থাকবে প্রতিবাদের অগ্নিশিখা হয়ে , বাংলাদেশের হৃদয়স্পন্দন হয়ে।

শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১৩

শাহবাগ জেগে আছে , শাহবাগ ঘুমায় না ...

স্বাধীন বাংলাদেশ , স্বাধীন লাল -সবুজ পতাকা আমাদের অগ্রজেরা রক্তের বিনিময়ে অর্জন করে দিয়ে গেছেন আমাদের। হাতের মুঠোয় মৃত্যু , চোখে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে একাত্তরে বীর মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ছিলেন। নিশ্চিত জীবনের আশ্বাস , মা - বোনের অশ্রুসজল চোখ সবকিছুকে দূরে সরিয়ে দেশ মায়ের ডাকে তাঁরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, আমাদের জন্য এনে দিয়েছেন সোনালি স্বদেশ - যার প্রতি কনা মাটিতে মিশে... আছে শহীদের রক্ত , বীরাঙ্গনা মায়ের অশ্রু। স্বর্গের চেয়ে প্রিয় এ জন্মভূমির স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব আজ আমাদের , ২০১৩ সালের নবপ্রজন্মের। অন্ধকারে খা খা সীমান্তে মুক্তিসেনার চোখের ঝিলিক জেগে আছে আজও। এ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি , রাজাকাররাও এ প্রজন্মের যুদ্ধ দেখেনি - দেখিয়ে দেয়ার এখনি সময়।

একাত্তরের রনাঙ্গনে যুদ্ধাহত একজন মুক্তিযোদ্ধা - শত্রুর বুলেটের আঘাতে মারা যাচ্ছেন তিনি। মৃত্যুর আগে সহযোদ্ধাদের কাছে তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল , মুক্ত ভূমিতে যাতে তাঁকে সমাহিত করা হয়। সহযোদ্ধারা এই বীর শহীদের লাশ কাঁধে নিয়ে খুঁজতে লাগলেন মুক্ত ভূমি। একজন প্রশ্ন করলেন , এখানে মুক্ত ভূমি কোথায় পাওয়া যাবে , মুক্তিযোদ্ধারা উত্তর দিলেন , মুক্ত ভূমি না থাকলে এই শহীদকে কবর দেয়ার জন্য আমাদের এক খণ্ড মাটি হলেও মুক্ত করতে হবে। এসব ইতিহাস শুনলে নিজের অজান্তে কাঁদি আর বলি , এত ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাকে যে কোন মূল্যে রক্ষা করতেই হবে। মুক্তির মন্দির সোপানতলে কত প্রান হল বলিদান , লিখা আছে অশ্রুজলে...। এই মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জেগে আছে , জেগে থাকবে যুগ যুগ ধরে।