বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০১৩

গর্জে ওঠো বীর বাঙালি , গর্জে ওঠো বাংলাদেশ

আবারো জেগে উঠছে শাহবাগ প্রজন্ম চত্বর , জেগে উঠছে গণজাগরণ মঞ্চ। গণজাগরণ মঞ্চের আজকের প্রেস ব্রিফিং থেকে ঘোষণা করা হয়েছে পরবর্তী কর্মসূচী - যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর এবং জামাত -শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে আবার স্লোগানে মুখরিত হবার পথে আমাদের প্রাণের শাহবাগ। গণজাগরণ মঞ্চের পরবর্তী কর্মসূচী হল - আগামী ২ নভেম্বর বিকাল ৩ টায় শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ , ৩ নভেম্বর সকাল ১০ টা থেকে দুই আলবদর নেতা চৌধুরী মইনুদ্দিন এবং আশরাফুজ্জামানের রায় না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান এবং ৯ নভেম্বর বিকাল তিনটায় ছাত্র -শিক্ষক সমাবেশ। শাহবাগ আজ একটা জায়গার নাম ই শুধু নয় , শাহবাগ আমাদের দাবি আদায়ের কেন্দ্রবিন্দুর নাম। প্রজন্ম চত্বর আমাদের প্রিয় বাংলাদেশের কলঙ্কমুক্তির স্লোগানমুখর সম্ভাবনার নাম। মনে করুন উত্তাল শাহবাগের কথা , সেই তিন মিনিটের নীরবতার কথা, কোটি কোটি সহযোদ্ধারা একসাথে শপথ নেয়ার কথা , কোটি মোমবাতির আলোয় প্রজ্জলিত শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের কথা।

আমরা যে যেই দল , যেই মতের ই অনুসারী ই হই না কেন - গণজাগরণ মঞ্চ হল আমাদের এক হওয়ার প্লাটফর্ম। বাংলাদেশ আমাদের সবার , আমরা সবাই দেশ টাকে যে যেভাবেই ভালোবাসি না কেন , রাজাকারের ফাসির দাবিটা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রত্যেকটা মানুষের। তাই সব তর্ক - বিতর্ক সবকিছু ভুলে চলে আসুন শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে , যোগ দিন গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশে, কণ্ঠে তুলে নিন রাজাকারের ফাসির দাবি । রাজপথে থেকে আমাদের আদায় করে নিতে হবে সব যুদ্ধাপরাধীর ফাসি। নভেম্বরে কসাই এর ফাসি কার্যকরের কথা রয়েছে। সেই বিজয় আনন্দে ভাসার জন্য এখন সবকিছু ভুলে আমাদের মনে রাখতে হবে আমাদের একটাই দাবি -রাজাকারের ফাঁসি। আমাদের জাগরনের মাধ্যমে দেখিয়ে দিতে হবে আমরা এখনও আছি বাংলার রাজপথে , আছি শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরে। কসাই কাদেরের ফাসি না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না। ফেব্রুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত রাজাকারের ফাঁসির দাবিতে আমাদের শাহবাগ প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলন আজ প্রায় বিজয়ের দোরগোড়ায়। আসুন প্রিয় সহযোদ্ধারা, হাতে হাত রেখে বিজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ করি লড়াইটা।

জয় বাংলা , জয় বঙ্গবন্ধু। জয় প্রজন্ম , জয় শহীদজননী, জয় গণজাগরণ মঞ্চ। জয় হোক মুক্তিযুদ্ধের , জয় হোক স্বাধীনতার।

আর কোন দাবি নাই , রাজাকারের ফাসি চাই

আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে অনেক অপেক্ষার নভেম্বর মাস। কেন অপেক্ষার? কারণ অনেকদিন আগে থেকে শুনছি, বিভিন্ন অনলাইন নিউজেও দেখছি যে নভেম্বরে কাদের কসাই এর ফাঁসি কার্যকর হবে। অনেক আশা করে আছি এই নভেম্বর কে নিয়ে। বাংলাদেশের কলঙ্কমুক্তির মাস হয়ে থাকুক ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসটা। সেই পাঁচ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজাকারের ফাঁসির দাবি নিয়ে জেগে আছি শাহবাগের সৈনিকেরা, বিয়াল্লিশ বছর ধরে অপেক্ষায় আছেন একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা , পাকিস্তানিদের এবং রাজাকার - আলবদর দের অত্যাচারের চিহ্ন বহন করে বেঁচে আছেন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা , বীরাঙ্গনা মাএরা। ত্রিশ লাখ শহীদ চেয়ে আছেন দূর আকাশের নক্ষত্র থেকে , অপেক্ষায় আছেন মা জাহানারা ইমাম - এই সব প্রতীক্ষার অবসান চাই। স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি যত বাধাই দিক না কেন , নভেম্বরে রাজাকার কাদের কসাই এর ফাসি দেখতে চাই। 

এক সাগর রক্তের বিনিময়ে , বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা – আমরা তোমাদের ভুলবো না

একাত্তরের আগুনঝরা দিনগুলির কথা শুনে কাটল আজকের দিনটা - আমার জীবনে চিরস্মরণীয় একটা দিন হয়ে থাকবে সারাজীবন এই দিন। আজকে শাহবাগে আমরা কয়েকজন অনেক সুন্দর কিছু সময় কাটালাম একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা বিচ্ছু জালাল ভাইয়া ( আমরা আঙ্কেল , স্যার ইত্যাদি সম্বোধন করছিলাম - তিনি নিজেই বললেন কিসের স্যার , ভাইয়া বলবা ) , রাজু আঙ্কেল (রাজু আহমেদ) ,Helal আঙ্কেল , সাইফুল ইসলাম রঞ্জু আঙ্কেল ( Saif Raju ) এর সাথে। একাত্তরের এই বীর মুক্তিযোদ্ধারা আমাদেরকে শোনালেন যুদ্ধদিনের সেই পরশপাথর ছোঁয়ানো দিনগুলোর কাহিনী। পাশাপাশি আমাদের চলমান আন্দোলনের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও কথা হল তাঁদের সাথে। বিচ্ছু জালাল ভাইয়া এসেছিলেন লাল -সবুজ জামা গায়ে , বাংলাদেশের লাল -সবুজ পতাকা কপালে বেঁধে। তিনি আমাদের বলতে শুরু করলেন পহেলা মার্চ,১৯৭১  থেকে স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস- তাঁর নিজের চোখে দেখা পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার কাহিনী, মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী।

একাত্তরের পহেলা মার্চ থেকেই নিজ নিজ এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে থাকেন বিচ্ছু জালাল ভাইয়ারা। তাঁর বাবা ছিলেন গোয়েন্দা বিভাগের এস.পি। তখন উঁচু বিল্ডিং এর সংখ্যা ছিল খুব ই কম - বিচ্ছু জালাল ভাইয়াদের বিল্ডিং টা ছিল ছয় তলা। কাছাকাছি আর উঁচু বিল্ডিং ছিল হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল। আমাদের কয়েকজনকে দেখিয়ে তিনি বোঝালেন , "এইযে তোমরা যেমন পনের জন - বিশ জন করে সংগঠিত হয়েছ , আমাদেরও তেমন ছিল। আমরা বর্শা বানাতাম , মিলিটারি আসলে বর্শা দিয়ে আঘাত করব বলে।আমাদের বাসা এমন জায়গায় ছিল, সামনে দিয়ে যাতায়াত করত সব মিলিটারি ভ্যান। আমরা তাদের সামনে ছয় তলার ছাদে বাংলাদেশের লাল- সবুজ পতাকা তুলতাম , স্লোগান দিতাম -"লড়কে লেঙ্গে বাংলাদেশ"। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এ ভুট্টো থাকতে আসলে তাকে জুতা দেখাতাম , বাংলাদেশের লাল - সবুজ পতাকা দেখাতাম। মিলিটারি ভ্যান সামনে দিয়ে যেতে দেখলে আরও দ্বিগুণ উৎসাহে জুতা দেখাতাম, স্লোগান দিতাম, পতাকা দেখাতাম। "

মঙ্গলবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৩

বিজয় আনন্দ বুকে নিয়ে চূড়ান্ত বিজয়ের অপেক্ষা। কসাই কাদেরের ফাসি দেখার অপেক্ষা

একটানা দুইদিন পর অনলাইনে আসলাম । এসে অনেকগুলো খবরের মধ্যে সবচেয়ে খুশির যে খবর টা পেলাম তা হল - আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতরা নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হয়েছে । যাক, একটা অনেক বড় অপমানের অবসান হল আমাদের - আর কখনও এই যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে স্বাধীন বাংলার পতাকা দেখতে হবে না , আর কখনও ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে ভেজা বাংলার রাষ্ট্রক্ষমতায় কোন যুদ্ধাপরাধীকে দেখতে হবে না। আর কোনোদিন দেখতে হবে না ত্রিশ ...লাখ শহীদের রক্তে ভেজা পথ মাড়িয়ে কোন যুদ্ধাপরাধী রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে মাথা উঁচু করে আমরা বলতে পারব আমাদের বাংলাদেশে আর কখনও কোন যুদ্ধাপরাধী নির্বাচনের সুযোগ পাবে না।

রবিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১৩

সবার চোখে স্বপ্ন একই মাতাল ভোর , বলছি তোকে তুই রাজাকার ফাঁসিতে ঝোল ...।

জমা করে রাখা গল্পের বইগুলো সব গতকাল শেষ হয়ে গেছে , আজকে আর কিছু না পেয়ে ডায়েরি পড়তে বসলাম । এই ডায়েরি জিনিসটা আসলেই অনেক বড় বিশ্বস্ত বন্ধু - সেই ক্লাস সিক্স থেকে আজ পর্যন্ত সব কথা সে জানে , কিন্তু কাউকে কোন দিন বলবে না - সাত বছরের স্মৃতি কি সুন্দর করে গোপনে রেখে দিয়েছে। সবকিছুই আছে সেখানে - কোন বই পড়ে হাসা , কোন বই পড়ে কান্না , কখনও রাস্তায় ছোট বাচ্চাকে ঠেলাগাড়ি ঠেলতে দেখে কষ্ট পাওয়া , কখনও পরীক্ষার ব্যপারে টেনশন , কখনও আম্মুর সাথে রাগ - আবার সেই রাগ ভাঙ্গাতে কোথাও বেড়াতে যাওয়া বা নতুন কোন গল্পের বই উপহার পাওয়া ...।


তবে সবচেয়ে অবাক করা এবং আমার সবচেয়ে প্রিয় স্মৃতিগুলো হলো ২০১৩ সালকে ঘিরে , শাহবাগ আন্দোলনকে ঘিরে। জানুয়ারি মাসের শেষ দিনের ডায়েরিতে আছে সায়েন্স কংগ্রেস নিয়ে আলাপ - কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসের পাঁচ তারিখ থেকেই সবকিছু কেমন যেন পরিবর্তন হয়ে গেল। খবরটা দুপুরের হলেও আমি পেয়েছিলাম রাতে - অবাক বিস্ময়ে শুনেছিলাম কসাই কাদেরের ফাসি হয়নি। এরপর ? পরের দিন জানলাম শাহবাগ আন্দোলনের কথা। ব্যস , কোনোরকমে মা কে রাজি করিয়ে ছুটে গেলাম শাহবাগে। এরপর তো একটানা শাহবাগে থাকা , কলেজ টাইম বাদে আর বাবা বাসায় থাকার দিনগুলো বাদে প্রায় সবসময় ই।

একাত্তরের হাতিয়ার , গর্জে উঠুক আরেকবার - রাজাকারের ফাসি হোক , শহীদরা পাক ন্যায়বিচার

বাহ , শুরু হয়ে গেছে তাইলে ? সকালে ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথে শুনলাম বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ। গতকাল একাত্তর টেলিভিশনের অফিস , দেশ টিভির অফিস , এয়ারপোর্ট রেলওয়ে ষ্টেশন লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ - তিন বছরের শিশুর মৃত্যু , একাত্তর টেলিভিশনের সাংবাদিক আহত - এই খবর গুলো শোনার পর মা কে বলেছিলাম যে হরতাল শুরুর আগেই এই অবস্থা - হরতাল শুরু করলে না জানি কি হবে । কি হবে তা তো সকালেই টের পেলাম - ভাগ্যিস কোন মানু...ষ মারা যায়নি চোখের সামনে - সহ্য করতে পারতাম না। ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়েছি , দেখি অনেকগুলো ছেলে একসাথে কি যেন করছে রাস্তায়। ভাল করে দেখার জন্য সামনে আসলাম - ছেলেগুলো দৌড় দিল আর সাথে সাথে দুইটা ককটেল ফাটল পর পর। বলি শিবিরের সন্ত্রাসীরা , বাসার সামনে ককটেল মেরে শো - অফ করে বুঝি শাহবাগের একজন আন্দোলনকারীকে ভয় দেখানো যায় ?

শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৩

কসাই কাদের এর ফাসি কার্যকর হতে আর কত দেরি ????

সেই কবে থেকে শুনছি পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি কারাগারে পৌঁছানোর পর কাদের কসাই এর ফাঁসি কার্যকর হবে - সেই পূর্ণাঙ্গ রায় আর লেখা শেষ হয়না কেন? আর কত অপেক্ষা - খুব বেশি কিছু কি চেয়েছি আমরা ? কাদের কসাই যে স্বাধীনতার পর বিয়াল্লিশ বছর বাংলাদেশে বেঁচে ছিল এটাই তো তার ভাগ্য - আর কত , এইবার কি ফাঁসি টা দেয়া যায় না ? কি এমন পূর্ণাঙ্গ রায় যে দেড় মাস হয়ে গেল আপিল বিভাগ থেকে ফাসির রায় এসেছে, এখনও সেই পূর্ণাঙ্গ রায় লেখা আর শেষ হয়না। আর কত অপেক্ষা - এই প্রতীক্ষার অবসান কোথায় ?