শায়লা আর সোহেল । নববিবাহিত দম্পতি । এক সপ্তাহ হল তাদের বিয়ে হয়েছে। দেশের অবস্থা ভাল নয় , বঙ্গবন্ধুর ডাকে সর্বাত্মক অসহযোগ পালিত হচ্ছে বাংলার সর্বত্র । শায়লা বঙ্গবন্ধুকে অনেক বেশি শ্রদ্ধা করে । তাদের গ্রামে একবার এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু । শায়লা নিজের হাতে ফুলের মালা বানিয়েছিল , বঙ্গবন্ধুকে উপহার দেয়ার জন্য । কিন্তু শায়লার পরিবার বাধা দেয় । শায়লার বাবা স্থানীয় মসজিদের ইমাম । তার কথা হল , ঘরের মেয়ে বাইরে ...যাবে , বঙ্গবন্ধুর জন্য ফুলের মালা বানাবে , এইসব চলবে না । মেয়ে মানুষ থাকবে ঘরের মধ্যে , স্বামী - সন্তানের দেখাশোনা করবে , তাদের এত দেশ -রাজনীতি নিয়ে চিন্তার দরকার নেই। ওগুলো করবে পুরুষেরা । বাবার এরকম নীচ মানসিকতা শায়লাকে অনেক বেশি কষ্ট দেয় , অনেক বেশি কাঁদায় । বাবার পা জড়িয়ে ধরে শায়লা , একবার ,অন্তত একবার সে সেই মানুষ টিকে দেখতে চায় - বাঙ্গালির জন্য যিনি এত কষ্ট করছেন , এত জেল -জুলুম -অত্যাচার সইছেন শায়লার মত সাধারন মানুষদের জন্য । একবার সেই মানুষটিকে সামনে থেকে দেখতে চায় শায়লা । নিজের তৈরি ক্ষুদ্র উপহারটুকু সেই মহামানবটির হাতে দিতে চায় । কিন্তু মেয়ের কান্নায় বাবার মন গলে না । শায়লাকে এক ঘরে দরজা -জানালা আটকে বদ্ধ করে রাখা হয় । কত বড় সাহস , ইমাম বাড়ির মেয়ে হয়ে সে ঘরের বাইরে পা রাখতে চায়, বঙ্গবন্ধুকে দেখতে চায় , কত বড় সাহস একবার দেখ !!!
সোমবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
আগামীকাল সাকা রাজাকারের রায় , রাজাকার সাকার ফাসি চাই
আগামীকাল সাকা নামক একটা পশুর রায় । খুন -হত্যা -নির্যাতন -অগ্নিসংযোগ -লুটপাট সহ ২৩ টি অভিযোগ রয়েছে এই সাকার বিরুদ্ধে । গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে আট মাস ব্যাপি আমাদের আন্দোলনের বিজয়ের ধারাবাহিকতায় শাহবাগ এগিয়ে যাচ্ছে আর একটি বিজয়ের দিকে , সাকা নামক পশুটির ফাঁসির রায়ের দিকে । আমি বুঝি না , মানুষের যদি নুন্যতম চিন্তাশক্তি থাকে , মনুষ্যত্ব থাকে তাহলে সে কিভাবে নিজের দেশ এর বিরোধিতা করতে পারে ? আর হত্যা -ধর্ষণ -নির্যাতনে কি আনন্দ পেয়েছিল এই রাজাকার রা যে নিজের দেশের মানুষের উপর ই এরকম স্টিম রোলার চালিয়েছিল ? সাকা , কাদের কসাই , গোলাম আজম , মুজাহিদ , কামরুজ্জামান এদেরকে মানুষ বলা যায়না , এদেরকে মানুষ বললে মনুষ্যত্বের অপমান করা হয় । ১৯৭১ এর শীর্ষ ৭৫ রাজাকারের মধ্যে একজন হল এই সাকা চৌধুরী , যে বি এন পির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও । বুঝি না , বি এন পির কি একটু লজ্জাও করে না এ ধরনের মানুষ নিয়ে দল গঠন করতে? কোন মানুষ কি কখনও অন্য মানুষের খুনির সাথে হাত মেলাতে পারে , কোন নারী কি কখনও অন্য নারীর ধর্ষকের সাথে হাত মেলাতে পারে ?
কসাই কাদের এর ফাসির জন্য আর কত অপেক্ষা প্রয়োজন ?আর কত রক্ত প্রয়োজন ????
১৯৭১ সালে যখন এই কাদের কসাই রা বাঙ্গালিদের উপর এত অত্যাচার -নির্যাতন -খুন -ধর্ষণ এতকিছু করেছিল , তখন তারা কোন আইন অনুসরন করে করেছিল ? যখন তারা সদ্য জন্ম নেয়া শিশুকে বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে মেরেছিল , যখন ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষ খুন করেছিল , যখন মসজিদে -মন্দিরে -গির্জায় -প্যাগোডায় আগুন দিয়েছিল , মসজিদে আজান দেয়ার মধ্যে বাঙালি ইমামের কণ্ঠ রুদ্ধ করে দিয়েছিল - শুধু তিনি বাঙালি বলে , তখন কোথায় ছিল এতসব আইন -...মানবাধিকার ইত্যাদি এত বড় বড় বুলি ? আমরা বাংলাদেশের সাধারন মানুষ , আমরা শুধুই রাজাকারের ফাঁসি চাই , আর কোন দাবি নাই । ত্রিশ লাখ শহীদ আর দুই লাখ বীরাঙ্গনার রক্তের হিসাব কসাই আর তার সহচরেরা কিসের দোহাই দিয়ে জায়েজ করে নেবে ? আমাদের বাংলাদেশ রক্তের দামে কেনা , এই বাংলাদেশের জন্য দেশের সাধারন মানুষ অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন , মুক্তিযুদ্ধ করে এই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে , এই বাংলাদেশ রক্তের দামে কেনা -কারও দয়ায় পাওয়া নয় ।
মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
জামাত -শিবির রাজাকার , এই মুহূর্তে বাংলা ছাড় ।
জামাত একটা ধর্ম ব্যবসায়ী সন্ত্রাসী দলের নাম , বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে যারা এই দেশ টির বিরোধিতা করে আসছে , এখন ও করছেই । এই দলটি ১৯৭১ এ মুক্তি যুদ্ধের বিরোধিতা করে এবং শান্তিকমিটি,রাজাকার আলবদর,আল-শামস বাহিনী গঠণ করে।মুক্তিবাহিনীর বিজয়ের পর স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু এ দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধ করেন।তিনি গোলাম আজম এর নাগরিকত্ব ও বাতিল করেন।এর নেতারা পাকিস্তানে চলে যায়।বঙ্গবন্ধু কে হত্যার পর জিয়াউর রহমান জামাতের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেন।গোলাম আজম কে নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেন।তারা বাংলাদেশে রাজনীতির অধিকার পায়। জামাতের কাজকর্মেই বোঝা যায় যে তাদের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতো তালেবানি রাষ্ট্র বানানো।কিন্তু সুপ্রাচীন কাল থেকে বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক,বাঙালি অসাম্প্রদায়িক।বাংলাদেশ কখনোই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিশ্বাস করে না যার প্রমাণ আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি,আমাদের ইতিহাস।আমাদের পতাকা।
সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
সাকা একটি পশুর নাম , রাজাকার সাকার ফাঁসি চাই
সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী মানে সাকা নামক একটা পশুর রায় এই সপ্তাহেই । ১৯৭১ সালে বাঙালি হয়ে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল যে কুলাঙ্গার রা , তার মধ্যে অন্যতম একজন হল এই পশু । খুন - হত্যা -অগ্নিসংযোগ - নির্যাতন , কি এমন অপরাধ আছে যা সে করেনি ?
১৯৭১ সালের ৪ বা ৫ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার পর মতিলাল চৌধুরী, অরুন চৌধুরী, যোগেশ চন্দ্র দে, ও পরিতোষ দাস, পাচক সুনীল প্রমুখ বন্ধুগণ একত্রিত হয়ে শহীদ মতিলাল চৌধুরীর চট্টগ্রাম শহরের কোতোয়ালি থানাধীন রামজন লেনের বাসভবনে দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনারত ছিলেন। আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী আব্দুস সেবাহান এ বাড়িতে ঢুকে তাদের দেখে সঙ্গে সঙ্গে বাসা থেকে বেরিয়ে গুডসহিলে খবর দেয়। তার ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই দুই ট্রাক পাকিস্তানী সৈন্যদের সঙ্গে নিয়ে উক্ত সোবহান বাসাটি ঘেরাও করে ফেলে এবং তাদের অপহরণ করে ট্রাকে তুলে গুডসহিলে নিয়ে যায়। পাচক সুনীলকে আটক ও অপহরণ করে আর্মির ট্রাকে তুলে গুডসহিলে নিয়ে যায়। পাচক বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুণ হওয়ায় তাকে গুডসহিলের নির্যাতন কেন্দ্র থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু বাকি ৬ জনকে আটক করা হয়। ছাড়া পাওয়ার কিছুক্ষণ পর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী উক্ত আব্দুস সোবহান মতিলাল চৌধুরীর বাসার সামনে সুনীলকে দেখতে পেয়ে সে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হওয়ায় প্রমাণ বিনষ্ট করার জন্য তালোয়ার দিয়ে কোপাতে শুরু করে। কিন্তু অপহরণ করে গুডসহিলে নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে আটক করে রাখা সেই ৬ ব্যক্তির আর কোন হদিস পাওয়া যায়নি।
১৯৭১ সালের ৪ বা ৫ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৯টার পর মতিলাল চৌধুরী, অরুন চৌধুরী, যোগেশ চন্দ্র দে, ও পরিতোষ দাস, পাচক সুনীল প্রমুখ বন্ধুগণ একত্রিত হয়ে শহীদ মতিলাল চৌধুরীর চট্টগ্রাম শহরের কোতোয়ালি থানাধীন রামজন লেনের বাসভবনে দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনারত ছিলেন। আসামি সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী আব্দুস সেবাহান এ বাড়িতে ঢুকে তাদের দেখে সঙ্গে সঙ্গে বাসা থেকে বেরিয়ে গুডসহিলে খবর দেয়। তার ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেই দুই ট্রাক পাকিস্তানী সৈন্যদের সঙ্গে নিয়ে উক্ত সোবহান বাসাটি ঘেরাও করে ফেলে এবং তাদের অপহরণ করে ট্রাকে তুলে গুডসহিলে নিয়ে যায়। পাচক সুনীলকে আটক ও অপহরণ করে আর্মির ট্রাকে তুলে গুডসহিলে নিয়ে যায়। পাচক বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুণ হওয়ায় তাকে গুডসহিলের নির্যাতন কেন্দ্র থেকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু বাকি ৬ জনকে আটক করা হয়। ছাড়া পাওয়ার কিছুক্ষণ পর সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী উক্ত আব্দুস সোবহান মতিলাল চৌধুরীর বাসার সামনে সুনীলকে দেখতে পেয়ে সে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হওয়ায় প্রমাণ বিনষ্ট করার জন্য তালোয়ার দিয়ে কোপাতে শুরু করে। কিন্তু অপহরণ করে গুডসহিলে নিয়ে যাওয়া এবং সেখানে আটক করে রাখা সেই ৬ ব্যক্তির আর কোন হদিস পাওয়া যায়নি।
রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
মায়ের বক্ষ ঝাঁঝরা করিয়া হাসিয়াছে অট্টহাসি , বাঙালি হাসিবে পরাণ ভরিয়া দেখিয়া রাজাকারের ফাঁসি
মধ্যরাতে ঘুমের ঘোরে পাশে রাখা ডায়েরি টার দিকে হাত চলে যায় । নিস্তব্ধতার মাঝে অশান্ত আকুলতায় উল্টাতে থাকি পাতাগুলো । না , কোন নির্দিষ্ট ঘটনা খুঁজে বের করতে চাইছি না । চঞ্চল হাতে শুধু উল্টে যাচ্ছি প্রতিদিনের স্মৃতিগুলো । কিন্তু হটাত করে আমার হাত থেমে গেল কেন ? ঘুম থেকে তখন পুরোপুরি জেগে উঠেছি । কোন পাতায় এসে থেমে গেলাম , নিতান্ত কৌতূহল বশতই লেখার দিকে তাকালাম । হ্যা ,আমি থেমে গিয়েছি সেই পাতাটায় এসে , যেটাতে আমার সবচেয়ে কাছের বান্ধবির সাথে আমার শেষ কথার স্মৃতিটুকু লেখা আছে । দিনটি ১৫ ই জুন , ২০১৩। গনজাগরন মঞ্চ নিয়ে সেদিন কলেজে তুমুল তর্ক হয় একসময়ের সবচেয়ে কাছের বান্ধবির সাথে ।
বাক্সবন্দি মধ্যবিত্ত
রিহান আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে । প্রতিরাতেই লোডশেডিং চলাকালিন সময়টুকু সে আকাশ দেখার কাজে ব্যায় করে । সে যে অযথাই আকাশ দেখে তাও কিন্তু না । সে আকাশ দেখার ফাকে নতুন নতুন গল্প প্রসব করে । তবে সে এখনো জানে না তার লেখা গুলো আদৌ গল্পের রূপ ধারণ করতে পেরেছে কিনা । তার ধারণা সে যেসব গল্প লিখে সবই নাকি জগাখিচুড়ীর একেকটা নতুন রেসিপি । জগাখিচুড়ী থেকে তার হঠাত্ মনে পড়ল , একদিন ডাকসুর খিচুড়ি খেতে হবে । এক বড় ভাইয়ের কাছে শুনেছে ডাকসুর খিচুড়ীর স্বাদ নাকি নান্নার বিরিয়ানীকেও হার মানায় । যদিও সে এখনও নান্নার বিরিয়ানীও খায় নি ।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)